আওয়ামী লীগবিহীন মাঠে পরিকল্পিতভাবে জামায়াতে ইসলামী এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে। বিএনপিকে ঠেকাতে ইসলামী আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি (একাংশ), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ও খেলাফত মজলিশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি এবং গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে জোট বাঁধার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নির্বাচনের আগে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি ও তৎপরতা জানান দিতে এবার রাজপথে নামছে জামায়াত জোট। সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে (পিআর) জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) তৈরি এবং ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি সামনে রেখে মাঠে নামার ঘোষণা তাদের। এভাবেই বিএনপিকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে জামায়াত। এনসিপি ও এবি পার্টি অবশ্য শেষ পর্যন্ত নিম্নকক্ষের নির্বাচনে পিআর দাবি থেকে কিছুটা পিছুটান দিলেও ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের অবিশ্বাস্য বিজয়ে জামায়াতের মনোবল এখন আকাশচুম্বী। জাতীয় নির্বাচনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে তারা অ্যাসিড টেস্ট হিসেবে নিয়ে আশাতীত সফল হয়েছে বলে মনে করছে। একই ধারাবাহিকতায় জাতীয় নির্বাচনেও জামায়াত মিরাকল ফলাফল করবে বলে আশা করছেন দলটির নীতিনির্ধারণী মহলের অনেকে।
একসময়ের ৫ শতাংশ ভোটের দল জামায়াত ধীরে ধীরে বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। লক্ষ্য- আগামী জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে শক্ত অবস্থান তৈরি করা। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে- ডাকসু ও জাকসুসহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের অবিশ্বাস্য জয়লাভের ফলে জামায়াত এখন আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের জোরালো স্বপ্ন দেখছে। বিশেষ করে- পতিত হাসিনা সরকারের দল আওয়ামী লীগের সব ভোট দাঁড়িপাল্লায় নেওয়ার জন্য যা যা করা দরকার- তার সবকিছু করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসলামি এ সংগঠনটি। মোদ্দাকথা- ছাত্রশিবিরের বিজয়ের রেশ ধরে জাতীয় নির্বাচনে একই রকমের অবিশ্বাস্য ভূমিধস বিজয় লাভের মাধ্যমে আগামীতে সরকার গঠন করতে চায় জামায়াত।