ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার

আপলোড সময় : ১০-০৪-২০২৬ ১১:৫৮:৪০ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০৪-২০২৬ ১১:৫৮:৪০ পূর্বাহ্ন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা। এতে বেড়েছে পরিবারের খরচ ও ভোগান্তি।

বিক্রেতারা বলছেন, এলপিজি বাজারটি মূলত কয়েকটি বড় কোম্পানি ও ডিলারের নিয়ন্ত্রণে। তাদের নির্ধারিত দামের ওপরই বাজার পরিচালিত হচ্ছে, ফলে খুচরা পর্যায়ে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।


বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গত সপ্তাহে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির এলপিজির দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করে, যা মার্চ মাসে ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। তবে পরিবেশকদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে তাঁদের কাছে সিলিন্ডার সরবরাহ করছে।

জেলার এলপিজি পরিবেশকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন কোম্পানি ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে ১ হাজার ৯৫০ টাকা পর্যন্ত দামে পরিবেশকদের কাছে বিক্রি করছে। এর সঙ্গে প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ৬০ টাকা পরিবহন খরচ যুক্ত হচ্ছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে এসব সিলিন্ডার ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের উত্তর পৈরতলা, কাউতলী, পাইকপাড়া, রামকানাই স্কুল মার্কেট, বি.বাড়িয়া স্কুল মার্কেট, মেড্ডা ও খয়াসার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানেই সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে।

কলেজপাড়ার বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গত মার্চে একটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৪৫০ থেকে দেড় হাজার টাকায় কিনেছি। এক মাসের ব্যবধানে দাম লাফিয়ে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা বেড়েছে। এতে আমরা ভোগান্তিতে পড়েছি।’

শহরের দাতিয়ারার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন জানান, গত মাসে ১ হাজার ৪৫০ টাকায় কেনা একই সিলিন্ডার তাঁকে এখন ২ হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে। তাঁর আট সদস্যের পরিবারে দেড় মাসে দুটি সিলিন্ডার লাগে, ফলে মাসিক গ্যাস খরচ তিন হাজার টাকার বেশি হয়েছে।

উত্তর পৈরতলার মেসার্স জহির এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জহিরুল ইসলাম বলেন, কোম্পানি থেকে ১ হাজার ৭২৮ টাকায় সিলিন্ডার দিচ্ছে। পরিবহন খরচসহ ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিনে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়। দোকানভাড়া, কর্মচারী খরচ ও লাভ কোথা থেকে আসবে?

কুমারশীল মোড়ের মেসার্স ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফুয়েল কর্নারের স্বত্বাধিকারী সুব্রত সাহা বলেন, এই ব্যবসায় এখন নানা অনিয়ম ঢুকে গেছে। গত মার্চে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেছেন। কিন্তু বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর সমিতির সভাপতি শেখ ফরিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার ও যুদ্ধ পরিস্থিতির অজুহাতে কোম্পানিগুলো দাম বাড়িয়েছে। এতে পরিবেশকেরা বেশি দামে কিনে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করতে না পেরে জরিমানা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে গত বুধবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর সমিতির সভাপতি শেখ ফরিদ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক : সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ 

ন্যাশনাল মিডিয়া হাউজ লিঃ 

ঠিকানা : রিসোর্সফুল পল্টন সিটি, ৮ম তলা, ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন। ঢাকা-১০০০.

ফোন : 0963 8932 732, ই মেইল : news@nationaltimes24.com

অফিস :