গাজী সালাউদ্দীন তানভীরের দুর্নীতি অনিয়মের সত্যতা পায়নি দুদক

আপলোড সময় : ০৫-০৩-২০২৬ ০২:২০:৩১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-০৩-২০২৬ ০২:২২:৪৬ অপরাহ্ন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব এ বি এম গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে তদন্তে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে নামে-বেনামে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের সত্যতা পায়নি দুদক। এজন্য তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লকের আদেশ প্রত্যাহার করেছেন আদালত।

ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ শুনানি শেষে রোববার এ আদেশ দেন। তবে বিষয়টি জানা যায় মঙ্গলবার (৩ মার্চ)।


মঙ্গলবার দুদকের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও এনআইডি আনব্লক চেয়ে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।’

 

এ আবেদন করার কারণ হিসেবে দুদকের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান পরিসমাপ্তি হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুদক প্রতিবেদন দিয়ে তা আদালতকে অবহিত করে। এর পর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও এনআইডি ব্লকের আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করলে তা মঞ্জুর হয়।

 

এবিষয়ে এনসিপিরে দক্ষিণ অঞ্চলের সূখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুক পোষ্টে বলেন ,এক অনলাইন পোর্টাল গাজী সালাউদ্দীন তানভীরের বিরুদ্ধে হঠাৎ ৪০০ কোটি টাকার দূর্নীতির এক অভিযোগ লিখে নিউজ করেছিল। পুরো দেশ নড়ে উঠলো। সকল মেইন স্ট্রিম মিডিয়া হাউজ তথ্যের যাচাই না করে ফুটেজের আশায় কে কার আগে কিভাবে রংচং মাখিয়ে নিউজ করতে পারে সেই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলো ! অথচ যে নিউজ পোর্টাল প্রথম সেই নিউজটি করল তারা কিছুক্ষণ পরেই সেই নিউজটি সরিয়ে নিল !

এর মধ্য দিয়ে এনসিপিকে দেশের মধ্যে এক মহাদূর্নীতির আতুড়ঘর হিসেবে দেখানো করা হলো।‌ তার সাথে যাদের একটু ভালো সম্পর্ক আছে তাদেরকেও দুর্নীতিবাজ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হলো। টকশো টেবিল থেকে শুরু করে কিছু ব্যক্তিত্বহীন, ফুটেজখোর রাজনীতিবিদ এটা নিয়ে রাজনৈতিক নোংরামি করা শুরু করল। পিআর প্রেশারে গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে এনসিপি সাময়িক বহিষ্কারও করলো।

অথচ সেই গাজী সালাউদ্দীনের বিরুদ্ধে ১ টাকার দূর্নীতিও পায়নি দুদক! ইন্টেরিমের দুদক না। বিএনপি শাসনামলের দুদক তাকে দায়মুক্ত করেছে। তার এনআইডি কার্ড, পাসপোর্ট সসম্মানে ফেরত দিয়েছে।
 

আপনি জাস্ট চিন্তা করেন, শুধু শুধু একটা লোককে পুরো বছর জুড়ে হেয় করা হলো। একটা দলকে একটা বছর ধরে দূর্নীতিগ্রস্ত বানানোর নোংরা খেলা হলো। কিন্তু তদন্তে জানা গেলো সবমিথ্যা।
 

মাঝখানে প্রতিটা দিন তিনি, তার পরিবার, তার দল এবং এই লোকটা সমাজে হেয় হলো। ঈদের নামাজ পর্যন্ত পড়তে যেতে পারেন। পলিটিকালি লোকটার ক্যারিয়ার অনেকটা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হলো। অথচ তিনি কোনো অপরাধই করেননি!

এখানে আরো কয়েকটা পার্সপেক্টিভ আছে।

তথাকথিত সুশীল সমাজ এবং কিছু মিডিয়া হাউজ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আওয়ামী লীগের পারপাস সার্ভ করার জন্য, জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য, এনসিপিকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে দেখানোর জন্য, টাকার বিনিময়ে ইচ্ছাকৃত এই ট্রায়ালগুলো করেছে।

আরেকটা অন্যতম বড় কারণ হলো- তার মুখ ভর্তি দাড়ি, টুপি, পাগড়ি এবং পাঞ্জাবি-পায়জামা। এই ইসলামী লেবাসটাকে ছোট করার জন্য, টিটকারীর বিষয় বানানোর জন্য আরেকটা গোষ্ঠী উঠে পড়ে লেগেছিল। যারা কাপড় না পড়ার স্বাধীনতা চায় কিন্তু ইসলামী লেবাস দেখলে তাদের গায়ে জ্বালা ধরে তারা আরো বেশি করে এই গুজবটাকে স্টাবলিশ করলো!

অতঃপর, মিডিয়া সন্ত্রাসদের বিরুদ্ধে জিতে যাওয়ায় গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে অভিনন্দন। নিজেদের ভিতরের এবং বাইরের সকল অনিষ্ঠকারীর মুখে চুনকালি মেখে দিয়েছেন আপনি। আপনার কাছে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। আপনার, আপনার পরিবারের, আত্মীয়-স্বজনের উপর দিয়ে সর্বশেষ ১ বছর যা গিয়েছে আল্লাহ সেই দুর্বিষহ সময় থেকে আপনাকে বের হয়ে আসার তৌফিক দান করুন।


 

 


 

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক : সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ 

ন্যাশনাল মিডিয়া হাউজ লিঃ 

ঠিকানা : রিসোর্সফুল পল্টন সিটি, ৮ম তলা, ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন। ঢাকা-১০০০.

ফোন : 0963 8932 732, ই মেইল : news@nationaltimes24.com

অফিস :