ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার শুরু ঘরে ফিরছে বাস্তুচ্যুত গাজাবাসী

আপলোড সময় : ১১-১০-২০২৫ ০৬:২৮:৩৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-১০-২০২৫ ০৬:২৮:৩৪ পূর্বাহ্ন

ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিমুক্তি চুক্তি অনুমোদন করার পর গাজার উল্লেখযোগ্য অংশ থেকে ইসরায়েলি সেনারা সরে যেতে শুরু করেছে বলে খবর দিয়েছে আলজাজিরা। এদিকে গাজার বাস্তুহারা পরিবারগুলোও পশ্চিমের আবাসিক এলাকা থেকে গাজার মূল অংশে ফিরতে শুরু করেছে, যেখান থেকে তাদের জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আলজাজিরা লিখেছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কিছু ব্রিগেড ও ডিভিশনকে গাজার কেন্দ্রীয় অংশ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গাজার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নুসেইরাত আশ্রয়শিবির থেকে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো উত্তর দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেছে।

 
তবে তারা এখনো নেতজারিম করিডরে প্রবেশ করতে পারেনি, যেখানে আগে ইসরায়েলি সেনারা অবরোধ করে রেখছিল। পরিবারগুলো অপেক্ষায় আছে, ওই অঞ্চল থেকে ইসরায়েলের শেষ ট্যাংকটি চলে যাওয়ার পর তারা সেখানে প্রবেশ করতে চায়।

 

তবে ভোর থেকেই ইসরায়েলি ড্রোন, যুদ্ধবিমান এমনকি যুদ্ধজাহাজের তৎপরতা বেড়েছে। সকালে যেসব জায়গায় মানুষ বাড়ি ফেরার জন্য জড়ো হয়েছিল, সেসব জায়গায় হামলারও খবর এসেছে।

 
আল-আহলি হাসপাতালের বরাত দিয়ে আলজাজিরা লিখেছে, সকাল থেকে গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকা থেকে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ইসরায়েলি হামলার খবর এসেছে খান ইউনিসের দিক থেকেও। দক্ষিণ গাজার ওই অংশে ইসরায়েলি বাহিনী ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণ করেছে বলে খবর দিয়েছে আলজাজিরা। গাজার সিভিল ডিফেন্স টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনিদের সতর্ক করে বলেছে, যেসব এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী এখনো অবস্থান করছে, সেখানে যেন কেউ না যায়।
 
আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের ঘোষণা এবং কর্তৃপক্ষের নিশ্চয়তা

 

না পাওয়া পর্যন্ত গাজা সিটির সীমান্তবর্তী এলাকায় কাউকে না যেতে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।

গাজায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিসরের শার্ম আল শেখে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে তিন দিনের পরোক্ষ আলোচনার পর বৃহস্পতিবার একটি চুক্তির বিষয়ে সমঝোতা হয়। ইসরায়েল সরকার শুক্রবার প্রথম প্রহরে ওই চুক্তির প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়। এর মাধ্যমে গাজায় সংঘাত বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি পাওয়ার কথা। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েল সরকারের অনুমোদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ‘ইয়েলো লাইন’ পর্যন্ত সেরে যাবে।

 
গাজায় হামলা বন্ধ করে মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ খুলে দেওয়া হবে। অন্যদিকে হামাস ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ২০ জন জীবিত জিম্মি এবং ২৮ জনের মরদেহ ফেরত দেবে। এর বিনিময়ে ইসরায়েল প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে। তাদের মধ্যে ২৭০ জন বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এবং বাকি এক হাজার ৭০০ জন বিনা বিচারে বন্দি, যারা ২০২৩ সালের হামলায় জড়িত ছিল না। তাদের মধ্যে ২২ জন কিশোরও রয়েছে। এ ছাড়া গাজার ৩৬০ জন যোদ্ধার মরদেহও ফেরত দেবে ইসরায়েল।

 

বন্দি-জিম্মি বিনিময় কার্যকর হওয়ার মধ্যেই খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা বহন করা অসংখ্য ট্রাকের গাজায় প্রবেশ করার কথা রয়েছে। এই সহায়তার জন্য অপেক্ষায় রয়েছে গাজার লাখ লাখ মানুষ, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়ে যাদের বেশির ভাগই এখন বিভিন্ন তাঁবুতে আশ্রয় নিয়ে আছে।

সূত্র : আলজাজিরা

 
 
 

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক : সৈয়দ আনোয়ার আবদুল্লাহ 

ন্যাশনাল মিডিয়া হাউজ লিঃ 

ঠিকানা : রিসোর্সফুল পল্টন সিটি, ৮ম তলা, ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টন। ঢাকা-১০০০.

ফোন : 0963 8932 732, ই মেইল : news@nationaltimes24.com

অফিস :