তাবলীগের বিরোধ সমাধানে মামুনুল হকের ঐতিহাসিক ৩ প্রস্তাবনা: প্রসংশায় ভাসছেন!
আপলোড সময় :
১০-০৮-২০২৫ ১২:৫০:৩৬ অপরাহ্ন
তাবলীগের বিরোধ সমাধানে গনমাধ্যমে কথা বলেন মাওলানা মামুনুল হক
দেশের শীর্ষ খ্যাতিমান আলেম, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক তাবলীগ জামাতের বিবাদমান বিরোধ মিমাংসায় গনমাধ্যমের সামনে ৩টি প্রস্তাবনা তুলে ধরছেন। তিনি দেশ বিদেশি শতাধিক গনমাধ্যমের উপস্থিতি সচিবালয়ে বৈঠক শেষে এই প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তার সমাধান মূলক ঐতিহাসিক প্রস্তবনায় বাংলাদেশের ইসলামী অঙ্গনে যেন শান্তির হাওয়া বয়ে যাচ্ছে ৷ তিনি অনলাইন ও অফলাইনে সকল মহলের প্রসংশায় ভাসছেন।
মাওলানা মামুনুল হক তখন বলেন, আজ তাবলীগ জামাতের উভয়পক্ষ আমরা সচিবালয়ে বসেছিলাম। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, ধর্ম উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখশ সহ সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। তাবলীগের উভয় পক্ষের মুরুব্বিগনও ছিলেন। আমরা আলেম উলামাদের পক্ষ থেকে ছিলাম।
মাওলানা মামুনুল হক গনমাধ্যমকে বলেন,আমরা এর সুন্দর একটা স্থায়ী সমাধান চাই।
১. আমরা তাবলীগ নিয়ে আর কোন সংঘাত চাই না। আর যেন সহিংসতার পুনরাবৃত্তি না হয়। আমরা শান্তিপূর্ণ তাবলীগের কর্মসূচি চাই।
২. উভয় পক্ষ কাজ করবে। সহবস্থান করবে। কারো কাজে কেউ বাঁধা দিবে না। প্রত্যেকে যারযার জায়গা থেকে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
৩. এটি কেবল বাংলাদেশের বিষয় নয়। এখানে এর মূল সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এটি একটি বৈশ্বিক বিষয়। এর সমাধান এর বিশ্ব মারকাজ বা কেন্দ্র থেকেই করতে হবে। বাংলাদেশে কেবল শান্তিপূর্ণ আলাদা আলাদা কাজের পরিবেশ তৈরি করা যায়।
এসময় মাওলানা মামুনুল হক আরো বলেন, সরকার উভয় পক্ষ নিয়ে একটি কমিটি করে দিয়েছে, যেন বাংলাদেশে সংঘাত সহিংসতামুক্ত উভয়পক্ষ কাজ করবে।
মাওলানা মামুনুল হকের এই বক্তব্যের পর উভয় পক্ষের তাবলীগের সাধারণ সাথী, মুরুব্বি ও ধর্মপ্রান মানুষের প্রসংশায় তিনি ভাসছেন। এবিষয়ে তাবলীগের আলমী শূরার সাথী মাওলানা মুজিবুর রহমান বলেন, মাওলানা মামুনুল হকের কথা শুনে অনেক ভালো লাগলো। দেশের একজন শীর্ষ গুরুত্বপূর্ণ ও জাতীয় নেতা হিসাবে তার কাছে উম্মাহর যেকোন সংকট নিরসনে অভিভাবকপূর্ণ সমাধান জাতী আসা করে। তাবলীগের মতো একটি দাওয়াতি অহিংস সংগঠন নিয়ে আমরা আর কোন সহিংসতা চাই না। তিনি এবং দেশের শীর্ষ আলেমরা আরো আগে এরকম প্রস্তাব তুলে ধরলে অনেক আগেই সমাধান হয়ে যেত। এতোদিন এমন উদ্যোগ কেন হয়নি তা আমি জানি না। মাওলানা মামুনুল হক তাবলীগের অহিংস এই পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা পালন করলে ইতিহাসে তিনি মহান একজন জাতীয় নেতা হিসাবে অমর হয়ে থাকবেন।
তাবলীগের নিজামুদ্দিন মারকাজ অনুসারী মাওলানা জিয়া ইবনে কাসেম ন্যাশনাল টাইমস টুয়েন্টিফোরকে বলেন, মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষ থেকে এমন মিমাংসামূলক প্রস্তাবনা ও বক্তব্যকে আমরা স্বাগত জানাই। তিনি যে প্রস্তাবনা বলেছেন, এটি আমরা বিগত ৮বছর ধরেই বলে আসছি। আমরা সহিংসতার পক্ষে নই, কেউ কাউকে বাঁধা না দেক। বাঁধা দেয়া থেকেই সহিংসতার জন্ম। উভয় পক্ষ যার যার জায়গা থেকে মারকাজ ও মসজিদে সমানভাগে আমল করুক। কোন বৈষম্য যেন না থাকে। মসজিদ আল্লাহর ঘর। তারা মসজিদের শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করতে চাই। আর এটি বাংলাদেশের বিষয় নয়। আমরা এটিই বলে আসছিলাম যা মাওলানা মামুনুল হক হাফি: গনমাধ্যমে এতদিন পর বললেন। তার প্রতি শুকরিয়া। তিনি এই বিষয়ে আন্তরিক হয়ে সরকারের সহযোগীতায় মিমাংসার পথ তৈরি করে দেন তা দুনিয়া ও আখেরাতে তার সম্মানকে আল্লাহ অনেক বৃদ্ধি করবেন ইনশাআল্লাহ।
উল্লেখ্য, যে তাবলিগ জামাতের দুই গ্রুপের মধ্যেকার বিবাদ নিরসনে সরকার সাত সদস্যের কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি আরও জানান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিতে উভয় গ্রুপের দুজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। তারা উভয় পক্ষই সিহিংসতা নয়, এর শান্তিপূর্ণ সমাধান চান বলে জানিয়েছেন। আমরা চাই এনিয়ে আর নতুন করে কোন বাড়াবাড়ি ও উত্তেজনা তৈরি না হোক।
ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, আগামীতে বিশ্ব ইজতেমা থেকে শুরু করে দুই গ্রুপের সম্পর্ক যাতে শান্তিপূর্ণভাবে চলমান থাকে সে বিষয়ে উভয় গ্রুপের নেতাদের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উভয় গ্রুপের যেকোনো সমস্যার সমাধানে কমিটি কাজ করবে। অচিরেই কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান তিনি।
ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ‘কিছু সমস্যা দুই গ্রুপের মধ্যে আছে সেগুলোকে সহনীয় পর্যায়ে আনার জন্য অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আমরা কথা বলেছি। আগামী দিনে তাদের সঙ্গে আরো বৈঠক করব। একটু কাছাকাছি নিয়ে আসা। আপনারা যানেন গত বছরও ইজতেমার আগে উভয় পক্ষের মাঝে সংঘাত হয়েছে। এ রকম পরিস্থিতি যাতে আগামী দিনে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, এ ব্যাপারে উভয়পক্ষের সহযোগিতা চেয়েছি। গত ২০২৪ সালেও আমরা যখন বারবার বৈঠক করেছি, উভয় গ্রুপ একসঙ্গে বসতে সম্মত ছিলেন না। এটাই প্রথম উভয় গ্রুপ দুজন উপদেষ্টার সঙ্গে বসে আলাপ-আলোচনা করার সুযোগ করে দিল।
উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘আগামীতে নির্বাচনের একটা প্রস্তুতি চলছে সরকারের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যস্ততা বেশি। আমার মন্ত্রণালয়ের অনেক কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। আমরা একটু গুছিয়ে নিতে চাই। আমাদের সময় স্বল্পতা রয়েছে এটা নিয়ে সময় দিতে পারছি না। আমরা যদি একটা কমিটি গঠন করে দেই তাহলে ওনারা দুই গ্রুপ কমিটির সঙ্গে বসবেন। দুই গ্রুপ যদি একটি সমঝোতায় আসতে পারেন বা ঐক্যমতে উপনীত হন, তাহলে আমাদের কাছে রেফার করলে আমরা সেটা ফাইনালি দেখব, অনুমোদন দেব।
জানা গেছে, কাকরাইল মসজিদ এবং ইজতেমার ময়দান ব্যাবহার ও সহবস্থান তৈরির লক্ষে উভয় গ্রুপের সঙ্গে ধর্ম উপদেষ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে তাবলিগের দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে উপদেষ্টা এ কথা জানান। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরী, কাকরাইলের আহলে শূরা সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম ও মাওলানা মামুনুল হকসহ অন্য মুরব্বিরাও উপস্থিত ছিলেন।
কমেন্ট বক্স