অবশেষে বিএনপি জোটেই যাচ্ছেন আল্লামা মামুনুল হক
আল্লামা মামুনুল হক। খেলাফত মজলিসের আমীর। হেফাজতের শীর্ষ নেতা। সুনামখ্যাত শায়খুল হাদীস ও আলোচিত ইসলামি বক্তা। এই মুহুর্তে আলেমদের মধ্য বাংলাদেশ জনপ্রিয়তার শীর্ষে আছেন তিনি। তার পিতা উপমহাদেশের বরেণ্য হাদীস বিশারদ, শায়খুল হাদীস আল্লামা আজীজুল হক রহ ছিলেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা। বিগত আওয়ামি ফ্যাসিবাদ আমলে তিনি দীর্ঘ ৩ বছর কারা ভোগ করেছেন । ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এর পর তিনি দেশের শীর্ষ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নেতায় পরিণীত হয়েছেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আল্লামা মামুনুল হক কার সাথে জোট করছেন? বিএনপি না জামাতের সাথে।
একটি জাতীয় গনমাধ্যমকে তিনি বলছেন বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ আছে। তিনি মোহাম্মদপুর সহ ৩টি আসনে জোটবদ্ধ নির্বাচন করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।
বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনি জোট বা সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো উড়িয়ে দেননি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তবে এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয়ের নিশ্চয়তা চান তিনি।
সম্প্রতি এক জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মামুনুল হক বলেন, বিএনপির সঙ্গে অতীতে নির্বাচনি জোট ও সমঝোতা হয়েছে। কাজেই ভবিষ্যতেও এ ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হলো—প্রথমত, জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন হওয়া এবং দ্বিতীয়ত, উচ্চকক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির নিশ্চয়তা। এই দুটি ইস্যুই আগামী নির্বাচনে জোট নির্ধারণের মূল ভিত্তি হবে।
বিএনপি বা অন্য কোনো জোটে যাওয়ার বিষয়টি কিসের ওপর নির্ভর করবে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘শুধু হিসাব-নিকাশ নয়, আদর্শিক বিষয়টিই মুখ্য। ইসলাম ও দেশের সার্বিক কল্যাণকে আমরা অগ্রাধিকার দেব। আবারও বলছি, জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন এবং উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতির নিশ্চয়তা আমাদের আগামী নির্বাচনে অবস্থান নির্ধারণ করবে।’
জামায়াতের সঙ্গে জোট আলোচনায় কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠনগুলো বিশ্বাস ও আদর্শের প্রশ্ন তোলে, অথচ বিএনপির ক্ষেত্রে তা তোলা হয় না কেন-এমন প্রশ্নে মামুনুল হক বলেন, ‘বিএনপি যেহেতু ইসলামি আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন নয়, তাদের সঙ্গে জোট করলে অনুসারীরা আদর্শিকভাবে বিভ্রান্ত হবেন না। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী একটি সুসংগঠিত ইসলামি দল। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের সঙ্গে তাদের কিছু মতপার্থক্য আছে। তাই জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করলে আমাদের জনশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং প্রশ্ন উঠতে পারে। এখানেই দুই দলের সঙ্গে জোট আলোচনার মূল পার্থক্য।’
তিনি আরো বলেন, জামায়াত এবং আমাদের চিন্তার পার্থক্যটা বিরাট। মাওলানা মওদুদী সাহেবের যে চিন্তাধারা, তার সঙ্গে ঐতিহ্যগতভাবেই আমাদের চিন্তাধারার পার্থক্য রয়েছে। সেটাই মূল পার্থক্য। এছাড়া জামায়াতের সঙ্গে আমাদের বৃহত্তর ইসলামিক উম্মাহর চিন্তার জায়গায় পার্থক্য তো আছেই। এসব পার্থক্যের কারণে এখনো মূলধারার আলেমসমাজ জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করেননি।
তাই জামাতের সাথে শেষ জোটে যাচ্ছেন না আল্লামা মামনুল হক এমনটি তার একাধিক বিশস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকগন বলছেন আর্দশগত কারনেই আল্লামা মামুনুল হক শেষ পর্যন্ত জামাতের সাথে জোট না করে বিএনপির সাথে জোটবদ্ধ হতে পারেন। এছাড়া ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে তিনি বিএনপির সাথে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন ধরে। জুলাই বিপ্লবের পর বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেন, বিএনপি ও তার একাধিক অঙ্গ সংগঠন তাদের দলীয় সমাবেশে তাকে আমন্ত্রণ করে। বিএনপির একাধিক বিশস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিএনপির হাই কমান্ড আল্লামা মামুনুল হক সহ দেশের শীর্ষ আলেমদের একটি বড় অংশকে কৌশলগত কারণে আগামি নির্বাচনে সাথে রাখতে চায়। এজন্য তারা যেকোন ছাড় দিতেও তৈরি।
কমেন্ট বক্স