তারেক রহমান
জনগণের রায়ে গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়তে পারব
আপলোড সময় :
০৯-০৮-২০২৫ ১০:৪১:০০ পূর্বাহ্ন
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় কী হবে তা নিয়ে আন্দোলনের শরিক জোট ও দলের সঙ্গে ‘রুদ্ধদ্বার’ বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার এই বৈঠকটি হয়েছে বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন।
তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি ও লেবার পার্টির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে বৈঠকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং করণীয় বিষয়ে আলোচনার কথা বলা হলেও বিস্তারিত কিছু জানাননি বৈঠকে অংশ নেওয়া কোনো নেতা।
তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, মতবিনিময়সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আসছে নির্বাচনে জনগণের রায়ে আমরা ৩১ দফার আলোকে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারব। গতকাল শুক্রবার সমমনা ১২ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই মতবিনিময়সভা হয়। এতে যুক্তরাজ্যর রাজধানী লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তারেক রহমান।
জোট নেতাদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের ঐক্যের মাধ্যমে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর জুলাইয়ে ছাত্র, শ্রমিক ও জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে।’
উল্লেখ্য, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ও নির্বাচন আয়োজনের সময় ঘোষণার পর শরিকদের সঙ্গে বৈঠক করলেন বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে গত মঙ্গলবার ২৮ দফা ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ঘোষণা করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, যা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সংশোধনের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একই দিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে রোজার শুরুর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন।
জামায়াত বলেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা না বলে নির্বাচন আয়োজনের সময় ঘোষণায় তারা ‘বিস্মিত’।
গত বৃহস্পতিবার জামায়াত জরুরি বৈঠক করে সাত দফা দাবি জানিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় শরিক জোট ও দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করলেন তারেক রহমান। বিগত ‘ফ্যাসিবাদ’বিরোধী আন্দোলন ১২ দল নিয়ে ‘১২ দলীয় জোট’ এবং ১১ দল নিয়ে ‘জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট’ বিএনপির সঙ্গে যুগপত্ভাবে অংশ নেয়।
বৈঠকে ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক মোস্তফা জামাল হায়দার, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সমন্বয়ক ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নিজ নিজ জোটের নেতৃত্ব দেন।
অন্যদিকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ ও লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান নিজ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দুই জোটের অন্য নেতাদের মধ্যে বিএলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের নুরুল আমিন বেপারী, ইসলামী ঐক্যজোটের এম এ রকিব, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার খন্দকার লুত্ফুর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১২ দলীয় জোটের শরিকরা হলো—জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), এলডিপি, বাংলাদেশ জাতীয় দল, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, জাগপা একাংশ, লেবার পার্টির একাংশ, কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, ইসলামিক পার্টি, নয়া গণতান্ত্রিক পার্টি, প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল। আর জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের শরিকরা হলো—ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), জাগপার একাংশ, ডেমোক্রেটিক লীগ (ডিএল), বাংলাদেশ ন্যাপ, বিকল্প ধারা, সাম্যবাদী দল, গণদল, ন্যাপ-ভাসানী, ইসলামী ঐক্যজোট একাংশ, পিপলস লীগ ও বাংলাদেশ সংখ্যালঘু জনতা পার্টি।
মতবিনিময়সভায় বিএনপির সমমনা দলগুলোর শীর্ষ নেতারা আন্তরিক পরিবেশে তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, জোটের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা, নির্বাচনী কৌশল, আন্দোলনের দিকনির্দেশনা নিয়েও আলোচনা করেন বলে জানা গেছে।
কমেন্ট বক্স