সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ নেপাল। জেন জি নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলনে এখনও পর্যন্ত পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন ২০ জন বিক্ষোভকারী। ভয়ের চোটে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। পার্লামেন্টে গিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন আন্দোলনকারী তরুণ সমাজ। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে মারধর করেছে ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম।
তবে শুধু নেপাল নয়! এবার ফ্রান্স সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলেন ফরাসিরা। ইমানুয়েল ম্যাখোঁ সরকারের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেছেন তারা। পরিস্থিতি রীতিমতো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অগ্নিসংযোগ চলছে এবং মানুষ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়ছে জনগন। আসলে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছেন বিক্ষুব্ধ জনতা। ম্যাখোঁ ঘনিষ্ঠকে নতুন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণার পরেই এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। মানুষ বলছে যে, ম্যাখোঁর সরকার জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার জন্য কিছুই করেনি এবং এর আর্থিক ব্যবস্থাপনা খুবই খারাপ।
ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘সবকিছু ব্লক করুন’ এর ডাক দিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেছেন মানুষজন। হাজার হাজার পুলিশ বিক্ষোভকারীদের থামানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বিক্ষোভকারীরা পুরো ফ্রান্স জুড়ে বিক্ষোভ করছে এবং যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছে। আবর্জনার বাক্স পোড়ানো হচ্ছে। অনেক জায়গায় পুলিশ এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা প্রতিটি কার্যকলাপ বন্ধ করার চেষ্টা করছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমস্ত অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য সারা দেশে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
জানা গিয়েছে যে, দেশব্যাপী বিক্ষোভের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ২০০ জনকে গ্রেফতারের ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। বুধবার প্যারিস এবং ফ্রান্সের অন্যান্য স্থানে বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করে, আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এবং পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুঁড়ে মেরেছে। তারা রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাখোঁর উপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন। ইতিমধ্যেই বিক্ষোভকারীরা ৮০,০০০ পুলিশি মোতায়েনকে অমান্য করে ব্যারিকেড ভেঙে দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রিটেইলউ বলেছেন যে, পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর রেনেসে একটি বাসে আগুন লাগানো হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি লাইনে বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতির কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বুধবার ভোরে প্যারিসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। আজ (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা নাগাদ ৭৫ জনকে আটক করা হয়েছে। সংসদীয় আস্থা ভোটে ফ্রাঁসোয়া বেরুকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অপসারণ এবং মঙ্গলবার সেবাস্তিয়ান লেকর্নুকে তার স্থলাভিষিক্ত করার দুই দিন পর থেকেই বিক্ষোভে নেমেছে গোটা দেশ।
ম্যাখোঁর বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হল, তিনি ১২ মাসের মধ্য়ে চতুর্থ প্রধানমন্ত্রীকে বসিয়েছেন রাষ্ট্রের মসনদে, আর সবটাই তার লোক। এটাকে প্রতিরোধের কারনেই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। এটি “ব্লক এভরিথিং”-এর স্বতঃস্ফূর্ততা ম্যাখোঁর রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথম মেয়াদে “ইয়েলো ভেস্ট” আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। যখন ম্যাক্রোর জারি করা জ্বালানি কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভে নেমেছিল গোটা দেশ।