বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতায় কতটা অস্বস্তিতে ভারত
বাংলাদেশ সফরে এসে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতির সংকলন আর্ট অব ট্রায়াম্ফ দেখছেন পাকিস্তানি উপপ্রধানমন্ত্রী ইশহাক দারএখন থেকে মাসছয়েক আগেকার কথা, মাস্কাটে ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সের অবকাশে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর বৈঠকে বসেছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে।আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট বা 'সার্ক'কে পুনরুজ্জীবিত করে তোলার প্রসঙ্গ তোলা হয়, যেটি সে দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের একটি সুপরিচিত অবস্থান।
এর আগে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও একাধিকবার সার্ককে জিইয়ে তোলার কথা প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, যে প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম প্রায় এক দশক হলো স্থবির হয়ে রয়েছে।
কিন্তু মাস্কাটের বৈঠক মি জয়শংকর পরিষ্কার জানিয়ে দেন, সার্কের কথা আপাতত না তোলাই ভালো – কারণ কোন দেশটির কারণে আর কেন সার্ক অচল হয়ে আছে, সেটা জোটের সদস্য দেশগুলোর ভালো মতোই জানা।শুধু তাই নয়, সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলা মানে সেটাকে ভারত যে 'পাকিস্তানের সুরে সুর মেলানো' হিসেবেই দেখবে, সেটাও বলেন মি জয়শংকর।এর দিনকয়েক বাদেই দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, "আমরা বাংলাদেশকে আরও বলেছি, তারা যেন সন্ত্রাসবাদকে 'নর্মালাইজ' করার, বা স্বাভাবিক ঘটনা বলে তুলে ধরার কোনো চেষ্টা না করে!"
ভারত যেখানে সার্কের হয়ে কথা বলাকেও পাকিস্তানের হয়ে সওয়াল করা হিসেবে দেখছে – সেখানে ঢাকা ও ইসলামাবাদের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা যে দিল্লিকে অস্বস্তিতে ফেলছে, তা সহজেই অনুমেয়!মাস্কাটে সেই বৈঠকের পরবর্তী কয়েক মাসে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ শুধু কাছাকাছিই আসেনি, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, সংস্কৃতি বা যোগাযোগ – প্রায় সব খাতেই দুই দেশের সহযোগিতা নিবিড় থেকে নিবিড়তর হয়েছে।
সেই ফেব্রুয়ারিতেই বাংলাদেশ বহু বছরের মধ্যে প্রথমবার পাকিস্তান থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করে, দুই দেশের মধ্যে আবার শুরু হয় সরাসরি বাণিজ্য।
এরপর উদ্যোগ নেওয়া হয় ভিসা বিধিনিষেধ শিথিল করার এবং ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে ডিরেক্ট ফ্লাইট চালু করার। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া ও সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানায় পাকিস্তান।
কমেন্ট বক্স