বরিশালের বাকেরগঞ্জে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় ছাত্রদল নেতা ফাহাদ খানকে (৩০) কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের হলতা গ্রামের সরদার বাড়ি এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত ফাহাদ খান চরাদি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি। তিনি চরাদি ইউনিয়নের বাসিন্দা ও জামায়াত ইসলামীর নেতা কামাল হোসেন খানের ছেলে।
এদিকে, ওই ঘটনার হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে চরাদি ইউনিয়নে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন স্থানীয়রা। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন, চরাদি ইউনিয়ন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ আ. জব্বার খান এবং ছাগলদি গ্রামের বাসিন্দা কাজী রিয়াজ।
স্থানীয়রা জানান, হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় ফাহাদ খানকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
এক ভিডিও বার্তায় ফাহাদ খান জানায়, তাদের প্রতিবেশী নুরুল ইসলাম হাওলাদারের ছেলে ও চরাদি ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম রানা, মোশাররফ হোসেন (পান্নু) খানের ছেলে আরিফ খান, সুলতান খানের ছেলে কাজী রিয়াজসহ আরও দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করে।
ফাহাদ খান অভিযোগ করেন, হলতা বাজারের এক ডিশ ব্যবসায়ী রাসেল খানের কাছে ইউপি সদস্য রানাসহ কয়েকজন চাঁদা দাবি করেছিলেন।
ফাহাদের বাবা জামায়াত নেতা কামাল হোসেন বলেন, গত সপ্তাহে আমাদের এলাকার এক ডিশ ব্যবসায়ীর কাছে ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম রানা চাঁদা দাবি করেছিলেন। আমার ছেলে এর প্রতিবাদ করেছিল।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজন জানান, ডিশ ব্যবসায়ী রাসেল খানের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে ফাহাদের সঙ্গে ইউপি সদস্য রানার বিরোধ তৈরি হয়।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম সোহেল রানা বলেন, ডিশ ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত সপ্তাহে এ ঘটনায় একটি চাঁদাবাজি ও একটি হত্যা চেষ্টার মামলা হয়েছে। ওই বিরোধের জেরেই ছাত্রদল নেতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ওসি বলেন, ইতোমধ্যেই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।