২১ অক্টোবর ২০২৬ , ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

টিউশনির টাকা বাঁচিয়ে ১০ টাকায় ইফতার বিক্রি, প্রশংসিত কুবি শিক্ষার্থী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ২৩-০২-২০২৬ ০২:৩৩:২০ অপরাহ্ন
টিউশনির টাকা বাঁচিয়ে ১০ টাকায় ইফতার বিক্রি, প্রশংসিত কুবি শিক্ষার্থী

রমজানের শেষ বিকেলে সূর্য যখন ধীরে ধীরে পশ্চিমে ঢলে পড়ে, তখন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেখা যায় সম্পূর্ণ এক ভিন্ন দৃশ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে ছোট্ট একটি টেবিলকে ঘিরে দীর্ঘ হতে থাকে একটি সারিবদ্ধ লাইন। কারণ স্বল্প মূল্যে অর্থাৎ ১০ টাকায় ইফতার প্যাকেজ সংগ্রহ করা যাবে।  টিউশনির টাকা বাঁচিয়ে এমন উদ্যোগ নিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষেরশিক্ষার্থী কাজী মিরাজ।

 
যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা এটিকে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখেছেন।

 

সরেজমিন দেখা গেছে,ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মাদ্রাসার ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কর্মচারীদের ভিড় দেখা মেলে ক্যাম্পাসের নির্দিষ্ট এই প্রাঙ্গণটিতে। কাজী মিরাজ এবং তার বন্ধুরা বাহিরের দোকান থেকে প্রস্তুত করা ইফতার প্যাকেট নিয়ে আসলেই শুরু হয় ইফতার বিতরণ । ইফতার গ্রহণ করতে পারছেন দৈনিক ৮০-১০০ জন রোজাদার।

 
 

 

এ বছর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়া অবধি চলবে এ ইফতার কার্যক্রম। এই ১০ টাকার ইফতার প্যাকেজে থাকে পেঁয়াজু, বুরিন্দা, বুট, আলুর চপ,জিলাপি, মুড়ি, কলাসহ ৮ থেকে ১০ প্রকারের খাবার আইটেম। ৫০-৬০ টাকা বাজারমূল্যের খাবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন মাত্র ১০ টাকায়। এসবের পাশাপাশি কোনোদিন দিচ্ছেন বিরিয়ানির প্যাকেটও।

 
কম টাকায় ইফতারি পেয়ে শিক্ষার্থীরাও খুশি হচ্ছেন।

 

মিরাজের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে ২০২০-২১ বর্ষের শিক্ষার্থী আদনান সাইফ বলেন, ‘এইরকম উদ্যোগ আসলেই প্রশংসার দাবিদার। বিগত দুই রমজান থেকে শুরু এই রমজানেও ক্যাম্পাস চলাকালীন সেইফতার বিতরণ করে যাচ্ছে। প্রথম দিকে এতটাও সাড়া না পেলেও এখন সবাই এই ইফতারে অংশগ্রহণ করছে।এর মাধ্যমে আর্থিকভাবে যারা একটু দুর্বল তারাও উপকৃত হচ্ছে।

 
এদিকে ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে ইফতার আগ্রহীর সংখ্যা। ফলে প্রতিদিন ৮০-১০০ প্যাকেটের আয়োজনথাকলেও অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়েও কিনতে পারছেন না ইফতার। সহায়তা পেলে এই ঘাটতিগুলো কাটিয়েউঠতে পারবেন বলে আশাব্যক্ত করেন মিরাজ।’

 

উদ্যোক্তা কাজী মিরাজ বলেন, ‘দৈনিক ১২০-১৫০ জন মানুষ লাইনে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু আমি সবাইকেদিতে পারছি না। আমার টাকায় যতটুকু সম্ভব হচ্ছে, আমি দেওয়ার চেষ্টা করছি। যদি কেউ সহায়তা করেন,তাহলে হয়ত সবাইকে দেওয়া সম্ভব হবে। আর ক্যাম্পাস যতদিন খোলা থাকবে৷ ততদিন হয়ত চালিয়ে যেতেপারব।থধর্মীয় বিশ্বাস এবং অনুভূতিই পবিত্র রমজান মাসে এই উদ্যোগ গ্রহণের পেছনে কারণ বলে জানান মিরাজ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তো অনেক টাকা, অনেক ভাবেই ব্যয় করি। এদিকে রমজান মাসে দান করলে তোএমনিতেই সওয়াব আসে। সেখানে রোজাদার কাউকে ইফতার করানো অনেক কিছু। তাদের হাতে যদিইফতারটা পৌঁছায় দিতে পারি, এতে আমার ভালো লাগে। আর একদিকে তো আল্লাহর তরফ থেকে সওয়াবপাবোই।থমিরাজ চান বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পার না হওয়া অবধি প্রতি রমজানে এই উদ্যোগ চালিয়ে রাখতে। চান।’

আশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমি এখন অনার্স ফাইনাল বর্ষে। যদি মাস্টার্স করি, তাহলে আরো একবছরপাবো। আর তা-নাহলে নিজহাতে এবছরই শেষ। তবে আমি না থাকলেও আমার মাধ্যমে অথবা আমার ব্যবস্থাপনায়কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর যেন শিক্ষার্থীরা দশ টাকায় ইফতার পায় সেই ব্যবস্থা করব ইনশাল্লাহ।’

 
 
 


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ