দাওরায়ে হাদিসের স্বীকৃতি নিয়ে নতুন মোড় নিচ্ছে কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ‘বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ড’-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসছে কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ শিক্ষা বোর্ড আল-হাইআতুল উলয়ার প্রতিনিধিদল। মাস্টার্স সমমান স্বীকৃতি, বোর্ডের অন্তর্ভুক্তি ও দাওরা পর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ কাঠামো—সব মিলিয়ে এই বৈঠককে ঘিরে কওমি শিক্ষাঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রত্যাশা।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সভার কথা জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ড’-এর দাওরাকে মাস্টার্স সমমান স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে সচিবের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের উপ-মহাপরিচালক মাওলানা মুহাম্মাদ শামসুদদোহা তালুকদার জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে আসছিলেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই আজকের বৈঠক ডাকা হয়েছে।
চরমোনাইয়ের বোর্ড হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ড তাদের আবেদনে উল্লেখ করে, ১৯৮৯ সালে আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম (রহ.)-এর উদ্যোগে এই বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বোর্ডের অধীনে পাঁচ হাজারের বেশি মাদরাসা নিবন্ধিত রয়েছে, যার মধ্যে দাওরা ও ফযিলত স্তরের প্রায় ২০০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের আইনের মাধ্যমে ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ গঠিত হলেও সে সময় বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ড অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় তারা সরকারি স্বীকৃতির বাইরে থেকে যায়। ফলে দাওরায়ে হাদিসসহ সব স্তরের সিলেবাস, পরীক্ষা ও সনদ কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারি স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, এতে সরকারের কোনো আর্থিক দায় থাকবে না।
এই প্রেক্ষাপটে আজকের বৈঠকে আল-হাইআতুল উলয়ার পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন—
আল-হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমানমাওলানা সাজিদুর রহমান, আল-হাইআতুল উলয়ার সদস্য মাওলানা মুফতি এনামুল হক (সিলেট), মুফতি এনামুল হক (বসুন্ধরা) এবং মুফতি মুহাম্মদ আলী সাহেব।
বৈঠকে কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার স্বীকৃতি সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।