নিখোঁজের ১০ দিন পর মেঘনা নদী থেকে দুজন জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ভোরে বরিশালের হিজলা উপজেলার গবিন্দপুরসংলগ্ন মেঘনার লালবয়া এলাকা থেকে স্বজনরা মরদেহ দুটি উদ্ধার করেন। ট্রলার ডুবির ঘটনায় এখনো দুজন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও ডুবে যাওয়া ট্রলারের সন্ধান পায়নি প্রশাসন।
মৃত উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন- হিজলার পালপাড়া গ্রামের সাগর মীরের ছেলে শাহীন মীর (২০) এবং বাথুয়া গ্রামের কাদের শিকদারের ছেলে আরিফ শিকদার (১৯)। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন পালপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর বেপারীর ছেলে নয়ন বেপারী (১৯) ও একই গ্রামের মনির শিকদারের ছেলে শাহীন শিকদার (২০)।
স্থানীয় প্রশাসন ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ জানুয়ারি ভোর সাড়ে চারটার দিকে হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়নের বাথুয়ারচরসংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছ ধরার সময় নোঙর করা ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা পাঁচ জেলের মধ্যে একজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও বাকি চারজন নিখোঁজ হন।
ট্রলারে থাকা জেলে শামিম হোসেন দিদার (২৫) জানান, রাতে জাল পেতে নোঙর করা ট্রলারে সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরের দিকে হঠাৎ ট্রলারটি কেঁপে ওঠে এবং সবাই নদীতে পড়ে যান। তিনি অন্য জেলেদের সহায়তায় তীরে উঠতে পারলেও চারজন আর উঠতে পারেননি। তার ধারণা, কোনো লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারটি ডুবে যেতে পারে।
হিজলা নৌ-পুলিশ স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র বলেন, ‘নিখোঁজ চার জেলেকে উদ্ধারে কয়েক দিন অভিযান চালানো হলেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার নিখোঁজ চারজনের মধ্যে দুজনের মরদেহ ভেসে ওঠে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখনো দুজন নিখোঁজ রয়েছেন।’
হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস সিকদার জানান, ঘটনার পরপরই নৌ-পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
কয়েক দিন অভিযান চালানো হলেও নিখোঁজ দুজনের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।