উপকূলীয় এলাকায় হঠাৎ করেই শীতের দাপট বেড়ে গেছে। দিনের পর দিন সূর্যের দেখা না মেলায় এবং উত্তরের হিমেল বাতাসের প্রভাবে কনকনে ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানায়, উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত শীতল বায়ুর কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা দ্রুত নেমে গেছে।
ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে জনপদ।
শীতের প্রভাব পড়েছে নদী ও উপকূলীয় জলপথেও।
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেতাগী পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতে শীতবস্ত্রের দোকান জমে উঠেছে।
তবে শীতবস্ত্রের বাজার জমজমাট হলেও সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। কুয়াশা ও ঠাণ্ডার কারণে দিনমজুররা সকালে কাজে বের হতে পারছেন না। রিকশা ও ভ্যানচালকেরা যাত্রী সংকটে ভুগছেন। কৃষিশ্রমিকদের কাজও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ন্যূনতম শীত নিবারণের পোশাক কিনতেও কষ্ট হচ্ছে অনেকের।
বেতাগী পৌর শহরের রিকশাচালক মোশারেফ হোসেন বলেন, সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। ঠাণ্ডায় শরীর অবশ হয়ে যায়। কম্বল কিনতে চাই, কিন্তু আয় কম থাকায় সম্ভব হচ্ছে না। এক নারী শ্রমিক বলেন, শীতে কাজে যেতে খুব কষ্ট হয়। বাচ্চাদের জন্য পুরোনো সোয়েটার কিনেছি, নিজের জন্য কিছু কেনা হয়নি।
শীতের তীব্রতায় দিনমজুর, রিকশাচালক, জেলে ও শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক পরিবার কাজ বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে শীতজনিত রোগেও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা ঝুঁকিতে রয়েছেন।
বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়্যাদ আমারুল ইসলাম জানান, প্রচণ্ড ঠান্ডায় সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়ে। এ সময় শিশু ও বয়স্কদের গরম খাবার খাওয়া এবং সবসময় শুকনো ও উষ্ণ পোশাক পরার পরামর্শ দেন তিনি। অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার কথাও বলেন তিনি।
শীত যত বাড়ছে, ততই অসহায় মানুষের কষ্ট বাড়ছে। স্থানীয়দের মতে, এই অবস্থায় দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণসহ কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।