২২ অক্টোবর ২০২৬ , ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা, কোটি মুসল্লির উপস্থিতিতে আখেরী মোনাজাত করবেন মাওলানা সাদ কান্ধলভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকম
আপলোড সময় : ০৪-০১-২০২৬ ১২:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন
পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা, কোটি মুসল্লির উপস্থিতিতে আখেরী মোনাজাত করবেন মাওলানা সাদ কান্ধলভী

দীর্ঘ ৩৪ বছর পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। হুগলি জেলার দাদপুর থানার অন্তর্গত পুইনান গ্রামে আয়োজিত এই বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ ইতোমধ্যে ঐতিহাসিক রূপ নিয়েছে। লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে ইজতেমা ময়দান পরিণত হয়েছে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের মিলনমেলায়। কোটি মুসল্লির উপস্থিতিতে আগামিকাল আখেরী মোনাজাত করবেন তাবলীগ জামাতের বিশ্ব আমীর হযরতজী মাওলানা মুহাম্মদ সাদ কান্ধলভী। তিনদিন ব্যাপী এই বিশ্ব ইজতেমায় মুফতী ইউসূফ বিন সাদ কান্ধলভীসহ বয়ান করেন তাবলীগ জামাতের বিশ্ব মারকাজ দিল্লীর নিজামুদ্দীনের র্শীষ মুরুব্বী উলামায়ে কেরামগন।

পশ্চিমবঙ্গ তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে ২ জানুয়ারি শুরু হওয়া এবারের বিশ্ব ইজতেমা চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। বাংলাদেশ, নেপালসহ বিভিন্ন দেশ এবং ভারতের নানা প্রান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের অংশগ্রহণে প্রায় ৯ হাজার বিঘা জমিতে গড়ে তোলা ইজতেমা ময়দান এখন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। যা বাংলাদেশের টঙ্গির ময়দান থেকে ১৫গুন বড় বলে অনুমান করা হচ্ছে।

 

ইজতেমায় অংশ নিতে আসা মুসল্লিরা জানান, দীর্ঘ ৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এমন বিশাল ইসলামী সমাবেশে অংশ নিতে পারা তাদের জন্য এক বিরল সৌভাগ্যের বিষয়। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে তারা টানা চার দিন ইজতেমা ময়দানে অবস্থান করে ধর্মীয় বয়ান শুনছেন ও ইবাদতে মগ্ন রয়েছেন।

মুসল্লিদের অভিমত, তারা শুধু নিজেদের জন্য নয়—সব ধর্মের মানুষের শান্তি, কল্যাণ ও মানবতার মঙ্গলের জন্য দোয়া করতে ইজতেমায় সমবেত হয়েছেন।

এই বিপুল ধর্মীয় জনসমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রথম দিন, অর্থাৎ জুম্মার দিন থেকেই ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের ঢল নামে। আয়োজকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম দিনেই ১৮ থেকে ২০ লাখের বেশি মুসল্লি ইজতেমায় অংশ নেন। গত দুই দিন দেখা যায় মুল ইজতেমার প্যান্ডেল ছাড়িয়ে খোলা আকাশের নিচে লাখলাখ মুসল্লী রাত্রী যাপন করছেন।

ইজতেমার দ্বিতীয় দিন শনিবার ময়দান পরিদর্শন করেন পশ্চিমবঙ্গের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের সব বিভাগ নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে, যাতে বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলকাতার ডিজি রাজীব কুমার, হুগলি জেলার জেলা শাসক খোরশেদ আলি কাদেরী, জেলা পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন, ধনিয়াখালির বিধায়িকা অসীমা পাত্র, সোনারপুর উত্তর বিধানসভার বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম, এ কে এম ফারহাদ, দাদপুর থানার ওসি মুন্সী হামিদুর রহমান, মেজবাবু চৌধুরী মজাহার হোসেনসহ প্রশাসনের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

আজ ৪ জানুয়ারি ইজতেমায় বয়ান করবেন তাবলীগের বিশ্ব আমীর মোহতারম হযরতজি মাওলানা সাদ কান্ধলভীসহ অন্যান্য আলেম ও মুরব্বিরা। আগামী ৫ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ কামনায় চার দিনব্যাপী এই বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশের পরিসমাপ্তি ঘটবে। আয়োজকদের ধারণা, শেষ দিনে প্রায় এক কোটি মুসল্লির সমাগম হতে পারে। কলিকাতা রাজ্য জমিয়তে ইলামায়ে হিন্দ বিশেষ সেচ্ছঅসেবক টিম গঠন করেছে। একাধিক চিকিৎসা ক্যাম্প বসিয়েছে বলে জানান কলিকাতা জমিয়ত সভািপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।

আয়োজকদের মতে, বিশ্ব ইজতেমা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির প্রতীক। কুরআন ও হাদিসের আলোকে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানানো হচ্ছে বয়ানে। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত এই বিশ্ব ইজতেমা তাই দেশ-বিদেশে বিশেষ গুরুত্ব ও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ