শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ব্যবসায়ী খোকন দাসকে ছুরিকাঘাতের পর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যা করার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত হত্যা, হামলা, নির্যাতন ও সম্পত্তি লুটপাটের ঘটনার বিরুদ্ধেও এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শরীয়তপুর জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট শরীয়তপুর জেলা শাখার আয়োজনে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, খোকন দাস একজন সৎ ও পরিশ্রমী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি নিজের ফার্মেসি ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি বিকাশ ও নগদের এজেন্ট হিসেবেও কাজ করতেন। বাড়ি ফেরার পথে তিন থেকে চারজন যুবক তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
বক্তারা আরো বলেন, দিপু হত্যা ও খোকন দাস হত্যাকাণ্ড একই সূত্রে গাঁথা। নির্বাচন এলেই হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত সহিংসতা ও নির্যাতন বেড়ে যায়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, মিথ্যা মামলা, লুটপাট, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, মন্দিরে হামলা ও জমি দখলের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংখ্যালঘুদের জানমাল ও ধর্মীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. হেমন্ত দাস। আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা শাখার সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র বেপারী, নির্বাহী সভাপতি চঞ্চল মজুমদার, সিনিয়র সহসভাপতি পবিত্র মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক নৃপেন দেবনাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক গোপাল দত্ত, সাবেক আহ্বায়ক সুশীল চন্দ্র দেবনাথ এবং নড়িয়া উপজেলা শাখার সভাপতি রতন কুমার দে।
মানববন্ধন শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা প্রদক্ষিণ করে একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে খোকন দাস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।