২৮ অক্টোবর ২০২৬ , ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

মির্জাগঞ্জে বাঁধ ভেঙে ৫০০ একর আমন ক্ষেত পানির নিচে

আপলোড সময় : ০৯-১২-২০২৫ ১০:২৪:১৮ পূর্বাহ্ন
মির্জাগঞ্জে বাঁধ ভেঙে ৫০০ একর আমন ক্ষেত পানির নিচে

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের ৪ নং দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের হাজিখালী খালের বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে আশপাশের ৯টি গ্রামের প্রায় পাঁচশো একর আমন ক্ষেত। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সচেতন নাগরিকরা দ্রুত বাঁধ নির্মাণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে স্বাক্ষর করেন মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আইউব খান, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মল্লিক মাকসুদ আহমেদ বায়েজীদ, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি খন্দকার আতাহার উদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ফারুক খান, সাধারণ সম্পাদক মো. আওলাদ হোসেনসহ আরো অনেকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পায়রা নদীর শাখা থেকে উৎপন্ন হয়ে মেন্দিয়াবাদ ও হাজিখালী গ্রামের সংযোগস্থল অতিক্রম করে হাজিখালী খাল দেউলীর বেবেরদোন নদীতে গিয়ে মিশেছে।

 
রানীপুর, বোয়ালিয়া, মুসুদাসহ আরো কয়েকটি শাখা খাল এই মূল খালের সঙ্গে যুক্ত। হাজীখালী খালের দুই প্রান্তে বাঁধ ও একটি সুয়েজের মাধ্যমে পানি নিয়ন্ত্রিত হয়ে এসব খাল দিয়ে আশপাশের গ্রামগুলোর সেচব্যবস্থা চলছে। কিন্তু গত মাসে পায়রা নদীর সংযোগস্থলে বাঁধ ভেঙে পড়ে পুরো এলাকার আমন ক্ষেত জলাবদ্ধ হয়ে তলিয়ে গেছে। প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে পানির উচ্চতা আরও বাড়ছে, ফলে ধানের ক্ষতি অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছে।
 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, আমন ধান শুকনো মৌসুমের ফসল। জমি দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকলে ধান বাসায় তোলা সম্ভব নয়। এতে কৃষকের বড় ক্ষতি হবে বলেই তাদের আশঙ্কা।

কৃষক মাহাবুব বলেন, ‘আমাদের জীবন-জীবিকা সম্পূর্ণভাবে এই আমন ধানের ওপর নির্ভরশীল।

 
তার ওপর অনেকেই ঋণের বোঝায় দিশেহারা। খালে দ্রুত বাঁধ না দিলে সমগ্র ফসল নষ্ট হয়ে যাবে, এক মুঠো ধানও ঘরে তুলতে পারব না।’

 

মির্জাগঞ্জ উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি খন্দকার আতাহার উদ্দিন বলেন, ‘উপকূলীয় অঞ্চলে মূলত এক মৌসুমের আমন ধানের ওপর কৃষকদের নির্ভরতা। ৫০০ একর জমির ফসল নষ্ট হলে ক্ষতি সামলানো অসম্ভব। জমিতে পানি থাকলে কোনো রবি শস্য যেমন ডাল, বাদাম, আলু, তরমুজ বা সূর্যমুখী চাষ করা সম্ভব হবে না।

 
তাই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আমরা ইউএনও’র কাছে আবেদন করেছি। তিনি পরিদর্শনের আশ্বাস দিয়েছেন।’

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা: মলিহা খানম বলেন, ‘দ্রুত বাঁধ নির্মাণের আবেদন পাওয়া গেছে। জায়গাটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 
 
 


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ