২০ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

​মানবসৃষ্ট বিপর্যয়: গাজার দুর্ভিক্ষ সমগ্র বিশ্বের জন্য লজ্জাজনক ব্যর্থতা

আপলোড সময় : ২২-০৮-২০২৫ ০৯:০৫:০৫ অপরাহ্ন
​মানবসৃষ্ট বিপর্যয়: গাজার দুর্ভিক্ষ সমগ্র বিশ্বের জন্য লজ্জাজনক ব্যর্থতা


গাজা শহর এবং এর আশেপাশের এলাকাগুলো এখন দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন বলে শুক্রবার (২২ আগস্ট) প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে জাতিসংঘ-সমর্থিত বৈশ্বিক ক্ষুধা পর্যবেক্ষক সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)। সংস্থাটি খাদ্য সংকটের মানদণ্ডে গাজা শহরকে তাদের শ্রেণীবিভাগে ‘পঞ্চম পর্যায়ে’ উন্নীত করেছে। অর্থাৎ গাজায় খাদ্য সংকট সর্বোচ্চ এবং সবচেয়ে গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে।


সংস্থাটি মানবসৃষ্ট এই দুর্ভিক্ষের প্রতিবেদন দেওয়ার পর মানবিক দাতব্য সংস্থা 'ইসলামিক রিলিফ' বলেছে, গাজায় দুর্ভিক্ষের বিষয়ে আইপিসি'র নিশ্চিতকরণ 'সমগ্র বিশ্বের জন্য লজ্জাজনক ব্যর্থতা'।


দাতব্য সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, 'প্রতিদিন আমাদের দল সেখানে আরও বেশি মানুষকে অনাহারে মারা যেতে দেখছে। শিশুরা আমাদের চোখের সামনে জীবন্ত কঙ্কাল হয়ে উঠছে। বিশ্ব এখনই ব্যবস্থা না নিলে আরও অনেক মানুষ মারা যাবে।'

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই দুর্ভিক্ষ কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি সম্পূর্ণরূপে মনুষ্যসৃষ্ট। ইসরায়েলের নিষ্ঠুর-অবৈধ অবরোধ এবং প্রতিদিন চলমান যুদ্ধাপরাধ বন্ধ করতে ব্যর্থ বিশ্ব নেতাদের সহযোগিতার কারণে এটি ঘটেছে। ব্যাপকভাবে দুর্ভিক্ষের ভবিষ্যদ্বাণী করা হলেও বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছে।


'মানবসৃষ্ট বিপর্যয়'

যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক সাহায্য সংস্থা 'মার্সি কর্পস'-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তজাদা ডি'ওয়েন ম্যাককেনা, গাজা শহরে দুর্ভিক্ষের জাতিসংঘের ঘোষণাকে 'একেবারে ভয়াবহ, তবুও অবাক করার মতো নয়' বলে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, 'সাহায্যের ওপর মাসের পর মাস ইচ্ছাকৃত নিষেধাজ্ঞা, খাদ্য, স্বাস্থ্য ও পানি ব্যবস্থা ধ্বংস এবং অবিরাম বোমাবর্ষণের প্রত্যক্ষ ফলাফল এটি। এটি একটি মানবসৃষ্ট বিপর্যয়, সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধযোগ্য এবং সম্পূর্ণরূপে অযৌক্তিক।'

ম্যাককেনা বলেন, মার্সি কর্পসের কর্মীরা ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। আমরা আমাদের নিজস্ব দলের সদস্যদের না খেয়ে থাকতে দেখছি। তারা খাবারের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও খাবার এড়িয়ে যাচ্ছে, যাতে তাদের বাচ্চারা খেতে পারে। প্রতিদিন রুটি ও পানি খুঁজে পেতে তারা জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে।

ম্যাককেনা আরও বলেন, 'গাজায় আমরা যা দেখছি, তা হলো সর্বোচ্চ নৈতিক ব্যর্থতা। বিশ্ব জানে কীভাবে দুর্ভিক্ষ থামাতে হয় - আমাদের কেবল পদক্ষেপ নেওয়ার ইচ্ছাশক্তি প্রয়োজন।'

'বিশ্ব ব্যর্থ হয়েছে'

গাজায় দুর্ভিক্ষ ঠেকাতে বিশ্ব ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করে দাতব্য সংস্থা অক্সফাম। তারা বলেছে, দাতব্য সংস্থাগুলো কয়েক মাস ধরে গাজায় যা প্রত্যক্ষ করছে, আইপিসি'র দুর্ভিক্ষ ঘোষণা সেটিই নিশ্চিত করেছে।

অক্সফামের নীতি প্রধান হেলেন স্টওস্কি বলেন, এই দুর্ভিক্ষ সম্পূর্ণরূপে খাদ্য ও গুরুত্বপূর্ণ সাহায্যের ওপর ইসরায়েলের অবরোধ, ইসরায়েলের সহিংসতার ভয়াবহ পরিণতি এবং যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে অনাহার ব্যবহারের কারণেই ঘটেছে।

তিনি বলেন, 'জুলাই মাসে দুর্ভিক্ষ আসন্ন বলে সতর্ক করা সত্ত্বেও ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের খাদ্য থেকে বঞ্চিত করে চলেছে। দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংস্থাগুলোর প্রায় প্রতিটি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ক্ষুধা, অপুষ্টি এবং রোগ প্রতিরোধ করতে পারে - এমন গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য এবং সাহায্য সরবরাহ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'ইসরায়েলের ওপর অর্থবহ চাপ প্রয়োগে যুক্তরাজ্য সরকারের ব্যর্থতা, শিশুসহ মানুষ অনাহারে মারা যাওয়ার সময় অলসভাবে দাঁড়িয়ে থাকা - এগুলো যতটা বিভ্রান্তিকর, ঠিক ততটাই নিন্দনীয়। এটা বন্ধ করতে হবে।'

'মানবতারই ব্যর্থতা'

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, গাজার দুর্ভিক্ষ একটি মানবসৃষ্ট বিপর্যয়, একটি নৈতিক অবক্ষয় এবং মানবতারই ব্যর্থতা।

তিনি বলেন, 'দুর্ভিক্ষ কেবল খাদ্যের জন্য নয়; এটি মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার ইচ্ছাকৃত পতন। মানুষ অনাহারে আছে। শিশুরা মারা যাচ্ছে। যাদের দায়িত্ব আছে তারা ব্যর্থ হচ্ছে।'

জাতিসংঘের প্রধান বলেন, আমরা এই পরিস্থিতিকে দায়মুক্তি দিয়ে চলতে দিতে পারি না। আর কোনো অজুহাত নেই। পদক্ষেপ নেওয়ার সময় আগামীকাল নয় - এখনই।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ