২২ অক্টোবর ২০২৬ , ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

এডভোকেট আব্দুল কদ্দুস বাদল

হজ্ব উমরার গুরুত্বপূর্ণ গাইড লাইন

আপলোড সময় : ২১-০৮-২০২৫ ০৭:৩১:৫৩ অপরাহ্ন
হজ্ব উমরার গুরুত্বপূর্ণ গাইড লাইন
দুঃখজনক হলেও সত্য আমরা আল্লাহর কালাম থেকে অনেক দূরে! প্রতিদিনই বায়তুল্লাহ্ শরিফে পবিত্র কোরআনের মশক হয়। বায়তুল্লাহ্'র সন্মানিত আলেমগনের তত্ববধায়নে মশক চলে। পৃথিবীর প্রায় সবদেশের লোকজন অংশগ্রহণ করে। আলহামদুলিল্লাহ বাংলাদেশের ও কিছু অংশ মশকে বসেন। প্রান জুড়িয়ে যায় বিভিন্ন ভাষার মানুষের কোরআন তেলাওয়াত শুনলে। কি মনমুগ্ধকর আওয়াজ, কি যাদুকরী প্রভাব আল্লাহর কালামের! বিশুদ্ধ উচ্চারণে এগিয়ে ইন্দোনেশিয়া, মিশর, মালোয়শিয়া, পাকিস্তান...

আর আমরা! কি বলব ? এদেশ আলেম-ওলামাদের দেশ, সবচেয়ে বেশী মসজিদ -মাদ্রাসা -খানকা, ইসলামী দল, দাওয়াত ও তবলীগের মেহনত কিন্তু ফলাফল উদ্বেগজনক! দুঃখজনক,কষ্টকর,আফসোস হয়, বাংলাদেশের অবস্থান সবচেয়ে হতাশাজনক। একজন ষাটোর্দ্ধ লোক সূরা ফাতিহা ও শুদ্ধভাবে তেলাওয়াত করতে পারে না। প্রায় দশজনের মধ্যে দুই বা তিনজনের মোটামুটি সঠিক হলেও বাকীদের উচ্চারণ ভূলে ভরা।

নামাযের তেরটি ফরজের অন্যতম একটি নামাযে কোরআনের বিশুদ্ধ তেলাওয়াত, সূরা ফাতিহা বিশুদ্ধ না হলে সারাজীবন নামায পড়লেও এ নামায আমার কি উপকারে আসবে। শুধু কি তাই রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো, দুই সেজদার মধ্যে স্থির হয়ে বসা ওয়াজিব কিন্তু হচ্ছেটা কি? শুধু কি তাই,মা-বোনদের পর্দা নিয়ে মহা সমস্যা, যে মা-বোন বাংলাদেশে পর্দা করেন হজ্বে গিয়ে পর্দা বেমালুম ভুলে যান, মনে হয় পর্দার বিধান রহিত হয়ে গেল বুঝি? দ্বীনদার মা-বোনেরা যেন কেমন হয়ে যায়। দেশে যারা অপরিচিতজনদের সাথে দেখা দেন না অথচ হজ্বে গিয়ে কাফেলার সকলের সাথে পর্দা ছাড়া হাসি-খুশি ভাবে কথা বলে, গল্প করে, দুঃখ লাগে। তবলীগের মেহনতের সাথে জড়িতরা ছাড়া বাকী প্রায় সবারই একই অবস্হা। অথচ সৌদি নারী পুলিশ'রা ডিউটি করে সম্পূর্ণ পর্দা করে, এর থেকে দেখেও শিক্ষা নেই না, অনেক উচ্চবিত্ত মা-বোন তো বোরখাই পরে না। পুরুষরা মাস্তুরাতকে সাথে নিয়ে অন্য পুরুষদের সাথে নামায পড়তে চান যা ভয়াবহ অবস্হা, বায়তুল্লাহ্ কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করতেই থাকে কে শুনে তার কথা। মাস্তুরাতের আলাদা সকল ব্যবস্হা থাকলেও যাবেনা, পুরুষের সাথেই থাকবে।

আমাদের দেশের সকলের নিকট অনুরোধ আপনি হজ্বে যেতে চান অথবা আপনার বাবা-মা, আত্বীয়-স্বজন পরিচিতজনকে হজ্বে পাঠানোর পূর্বে অন্ততঃ রেজিষ্টেশনের পর চার মাস তবলীগের সফরে , না হলে চল্লিশ দিনের সফরে দ্বীনের প্রাথমিক আহকামগুলো জানার জন্য, না হলে আপনার বাসার পরিবেশে একজন আলেমের তত্ববধায়নে পাঁচ ওয়াক্ত নামায, জায়নামাযের দোয়াসহ বিভিন্ন দোয়া, হজ্বের বিভিন্ন নিয়মগুলো শিখান, পর্দার বিষয়টিও প্লিজ। হজ্ব ইসলামের রুকুনগুলোর সর্বশেষ,গুরুত্বপূর্ণ রুকুন। যে ব্যক্তি অক্ষরজ্ঞানহীন তাকে পিএইচডি'র গবেষণার কাজে লাগানো বোকামি নয় কি? প্লিজ ঈমানের পরেই নামায। সুন্দর ভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামায শিক্ষা দিয়ে বা নিয়ে হজ্বে আসলে সময়, অর্থ, পরিশ্রম সার্থক হবে।

হে পরওয়ারদেগার, ভূলত্রুটি ক্ষমা করে আগত সকলের হজ্বে কবুল করুন, আগামীতে যারা আসবে সকলকে পরিপূর্ণ দ্বীন শিখে হজ্বে আসার তৌফিক দান করুন। আমিন।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ