২২ অক্টোবর ২০২৬ , ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা স্কুল ফান্ডে জমা দেওয়ার নির্দেশনা চার মাসেও বাস্তবায়ন হয়নি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ২৩-১১-২০২৫ ০৯:০৯:৪৫ অপরাহ্ন
৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা স্কুল ফান্ডে জমা দেওয়ার নির্দেশনা চার মাসেও বাস্তবায়ন হয়নি

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাময়িক বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক মফিজুল হক দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, অর্থ আত্মসাৎ ও নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার একচ্ছত্র আধিপত্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অভিভাবক, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। ওই সব অভিযোগের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় তার কাছ থেকে ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা স্কুল ফান্ডে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও চার মাসেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের শেষের দিকে পীরগঞ্জ পৌর যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে সাবেক এমপি ইমদাদুল হকের প্রভাবে পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান মফিজুল হক।

 
যোগ্য প্রার্থীরা থাকলেও দলীয় বিবেচনায় তাকে এ পদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। যোগদানের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন কৌশলে বিদ্যালয়কে দুর্নীতির ঘাঁটিতে পরিণত করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও শিক্ষক সমিতির জেলা–উপজেলা সভাপতির পদে থেকে প্রভাব বিস্তার করে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, দোকানঘর ভাড়া, শিক্ষার্থীদের ফি আদায়, গাছ বিক্রি ও বিভিন্ন নির্মাণকাজে ব্যাপক অর্থ আত্মসাৎ করেন তিনি।

 

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাতি শাখায় নিয়োগের নামে ১৪-১৫ জনের কাছ থেকে ১০-১২ লাখ টাকা করে আদায় করেন তিনি।

 
এছাড়া ১০ জন অতিথি শিক্ষক নিয়োগে দুই থেকে তিন লাখ টাকা করে সংগ্রহ করেন, যার কোনো অর্থ স্কুল ফান্ডে জমা হয়নি। দোকান ভাড়া, ভর্তি-রেজিস্ট্রেশন ফি, প্রশংসাপত্র প্রদানে ১০০–৫০০ টাকা, এমনকি মসজিদ ফি ও বিদ্যুৎ বিলের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়েরও প্রমাণ মিলেছে। স্কুলের জমিতে নির্মিত ৬৫টি দোকানের জামানত হিসেবে প্রায় ২ কোটি টাকা তিনি ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করেছেন বলে তদন্তে জানা যায়। একই সঙ্গে স্কুলের খেলাধুলার মাঠ নিজের নামে লিজ নিয়ে সেখানে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া প্রদানও করেন।
 

 

পরে অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেন। প্রথম কমিটির প্রতিবেদনে নানা অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়। দ্বিতীয় কমিটির প্রতিবেদনে ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার পর ওই অর্থ স্কুল ফান্ডে জমা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন পাঠানো হয়, যা বর্তমানে আপিল ও আরবিট্রেশন বোর্ডে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

এ দিকে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পীরগঞ্জ ও ঠাকুরগাঁও থানার দুটি মামলায় গত ৪ মার্চ আটক হয়ে ৪৬ দিন কারাগারে ছিলেন মফিজুল।

 
জামিনে মুক্তি পেয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদে পুনর্বহালের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মফিজুল হক। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মুঠোফোনে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। তিনি কোন দুর্নীতি করেননি বা কোন জায়গায় দলীয় প্রভাব খাটাননি। তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আরিফুল্লাহ বলেন, ‘মফিজুল হক মানে আতঙ্ক। তাকে ছাড়া কোন কাজ করা যেত না। আওয়ামী লীগের এবং শিক্ষক সমিতির ডবল সভাপতির দাপট দেখিয়ে সীমাহীন দুর্নীতি করেছেন। উপজেলা শিক্ষকরা তার কাছে জিম্মি ছিল।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রকিবুল হাসান জানান, মফিজুল হককে চূড়ান্তভাবে বরখাস্তের জন্য দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে আবেদন পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে নির্দেশনা পেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ