যশোর অঞ্চলে খেজুরগাছের সংখ্যা আগের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও রস ও গুড়ের উৎপাদন বাড়ছে না। গাছে ওঠার ঝুঁকি, পেশায় নতুন গাছির অনাগ্রহ ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে ঐতিহ্যবাহী খেজুর রস সংগ্রহ ক্রমেই সংকটে পড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গাছিরা; একই সঙ্গে ক্ষতি হচ্ছে গাছের মালিকদেরও।
মণিরামপুরের কাশিপুর গ্রামের অভিজ্ঞ গাছি আব্দুস সামাদ (৬৫) বলেন, ‘সবাই গাছ কাটতে পারে না।
গাছ মালিকদের অভিযোগ, গাছে ওঠার নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকায় তরুণদের আগ্রহ কম। ফলে অনেক গাছই পড়ে থাকে রস সংগ্রহ ছাড়া। তারা মনে করেন, গাছে ওঠার মতো সহজ কোনো যন্ত্র খেজুরগাছের জন্য তৈরি করা গেলে উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো সম্ভব।
মণিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদা আক্তার বীথি বলেন, ‘খেজুর রস ও গুড় দেশের একটি ঐতিহ্য। কিন্তু দক্ষ গাছির সংকট এবং নিরাপদে গাছে ওঠার আধুনিক প্রযুক্তি না থাকায় উৎপাদন কমছে। খেজুরগাছ উপযোগী একটি সহজ যন্ত্র উদ্ভাবন হলে তরুণরা আবারও এই পেশায় ফিরবে এবং উৎপাদন দ্বিগুণ হতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘খেজুরগাছ সংরক্ষণ, গাছিদের প্রশিক্ষণ ও যন্ত্র উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিলে যশোরের খেজুর শিল্প আবারও সমৃদ্ধ হবে।’
গাছি ও গাছ মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়—পেশাটিতে ঝুঁকি বেশি, আর্থিক নিরাপত্তা নেই, আধুনিক যন্ত্রের অভাব, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই, তরুণদের আগ্রহ কম।