২২ অক্টোবর ২০২৬ , ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের ভূমিকম্প ইতিহাস: অতীতের ভয়ঙ্কর কম্পন, আগামীর বিপদ ও সতর্কতা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ২১-১১-২০২৫ ০৪:২১:২০ অপরাহ্ন
বাংলাদেশের ভূমিকম্প ইতিহাস: অতীতের ভয়ঙ্কর কম্পন, আগামীর বিপদ ও সতর্কতা

বাংলাদেশ এখন বাস্তবভাবে ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এটা কোনো অনুমান নয়, বরং দেশটির ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থানের কারণে ভয়ংকর সত্য। ২৮ মার্চের ৪.৫ মাত্রার ভূমিকম্প ছিল মায়ানমার থেকে, কিন্তু আজ ২১ নভেম্বর ৫.৫ মাত্রার কম্পনের উৎস ছিল নরসিংদীর ঘোড়াশালেই। এ অবস্থায় একই সময় কলকাতাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে, যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

 

ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন, ভারত ও বার্মা প্লেটের পাশাপাশি বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, যে কোনো সময় দেশে বড় ধরনের ভূমিকম্প ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বাংলাদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ইতিহাস বেশ পুরোনো। ১৮২২ সালে সিলেটে ৭.৫ এবং শ্রীমঙ্গলে ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে ৭.৬ মাত্রার একটি বড় ধাক্কা আঘাত হানে। ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রামে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে, আর ১৯৯৯ সালে মহেশখালী দ্বীপে ৫.২ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। এছাড়া ১৯৫০ সালে ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ৮.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের কম্পন বাংলাদেশে অনুভূত হয়েছিল।

 

পৃথিবীর বিভিন্ন শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রভাবও বাংলাদেশে পড়েছে। ২০১৫ সালে নেপালে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে আশপাশের দেশগুলোতে কম্পন অনুভূত হয়েছিল, বাংলাদেশও তার বাইরে ছিল না। ১৮৯৭ সালে শিলং প্ল্যাটুতে ৮.২ মাত্রার ‘গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক’ হয়, এতে সিলেট, ময়মনসিংহ এবং ঢাকায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারান।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের অবস্থান তিনটি টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে—উত্তরে তিব্বত প্লেট, পূর্বে বার্মা সাব-প্লেট এবং পশ্চিমে ইন্ডিয়া প্লেট। এই প্লেটগুলো গতিশীল এবং এর ফলে বড় ধরনের ভূমিকম্পের শক্তি জমে থাকে। বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় যদি ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, ধ্বসে পড়তে পারে লাখো ভবন, আর প্রাণহানির সংখ্যা দুই-তিন লাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

ঢাকার ঘনবসতি, দুর্বল ভবন কাঠামো এবং নগরের বর্তমান প্রস্তুতি খুব সীমিত। তাই শক্তিশালী ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলানো কঠিন হবে। ঝুঁকি কমাতে এখনই ভবন কাঠামো পর্যালোচনা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ মোকাবিলার কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

ভূতত্ত্ববিদরা সতর্ক করেছেন যে, বাংলাদেশে শত বছর ধরে জমে থাকা শক্তি যে কোনো মুহূর্তে ৮ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প আকারে মুক্ত হতে পারে। তাই সময় থাকতেই সুষ্ঠু প্রস্তুতি নেওয়া আবশ্যক।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ