মামুনুল হক এর ‘আলোচিত স্ত্রী’ ঝর্ণা এখন কোথায়?
২০২১ সালে বাংলাদেশের আলোচিত ঘটনার একটি ছিল হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক এর কথিত স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্নার রয়েল রিসোর্ট কাণ্ড।
২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনকে কেন্দ্র করে হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘটে আন্দোলন, বিশৃংখলা ও হতাহতের ঘটনা। ঢাকার বাইতুল মুকাররমে হেফাজত- আওয়ামীলীগ-পুলিশ ত্রিমুখী এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তারই রেশ ধরে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এবং ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ।
দুই দিনে আহতের সংখ্যা দাঁড়ায় শতাধিক। নিহত হন ২২ জন। সারা দেশ বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে। এরই মধ্যে এই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে বন্ধু শহীদুলের সাবেক স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্নাকে নিয়ে সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নাম্বার রুমে অভিসার করতে গেলে ষড়যন্ত্র করে তাকে আটক করে যুবলীগের নেতামর্মীরা। এসবের পর তার বেশ কিছু একন্ত ফোনলাপ প্রকশ করে একত্তর টিভি। এনিয়ে দেশজুড়ে তুমল আলোচনা সমালোচনার জন্ম হয়। অবশ্য মামুনুল হক ঝর্নাকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেন।
পরবর্তীতে জান্নাত আরা ঝর্না মামুনুল হক এর নামে একটি ধর্ষণ মামলা করেন যার প্রেক্ষিতে তিনি দীর্ঘদিন জেলহাজত খাটতে হয়। অবশ্য ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে সেই মামলা থেকে মাওলানা মামুনুল হক খালাস পান। তবে এরপর থেকে তার এই আলোচিত স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্নার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মাওলানা মামুনুল হক সেই ‘স্ত্রী’ কোথায় আছেন তা জানালেন মাওলানা মামুনুল হক। তিনি প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক সেলিম জাহিদের এক প্রশ্নের জবাবে বিষয়টি খোলাসা করেন।
তার সামনে প্রশ্ন ছিল প্রথম আলো: এবার আপনার ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক জীবনের দুটি মোড় ঘোরানো ঘটনার কথা বলব। একটা হলো, ২০১৩ সালে ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে, অন্যটি ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে সোনারগাঁওয়ে। দুটি ঘটনাকে আপনি কীভাবে দেখেন?
মামুনুল হক: শাপলা চত্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটা অন্যতম মাইলফলক। আমরা মনে করি, এটা বাংলাদেশের নতুন বালাকোট (বালাকোট যুদ্ধ)। বালাকোট যে রকম উপমহাদেশের উপনিবেশবাদ আমলে এ দেশের স্বাধীনতা এবং দেশের ঐতিহ্য রক্ষা করার ক্ষেত্রে একটা প্রধান মাইলফলকের ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশেরও অনাগত ভবিষ্যতে এ দেশের গতিপথ নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে যে কয়েকটি ঘটনা নিয়ামকের ভূমিকা পালন করবে, তার মধ্যে অন্যতম একটা হলো শাপলা চত্বর। সেই শাপলা চত্বরে আমার একটা ভূমিকা ছিল, আমি দৃশ্যমান একটা জায়গায় ছিলাম, আল্লাহ পাক আমাকে সেখানে সেই ভূমিকা রাখার তৌফিক দিয়েছেন। শাপলা চত্বর আমার জীবনের অন্যতম একটা স্মরণীয় ঘটনা এবং এটা আমার জীবনকে পরিশীলিত করার এবং আমার ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের একটা ভিত্তি। সোনারগাঁওয়ের ঘটনা আমার জীবনের একটা অবশ্যই দুঃখজনক ঘটনা। এটা কখনোই কল্পনা করিনি। এ ঘটনার ভালো-মন্দ দুটো দিক আছে। মন্দ দিকটা হলো এই, এখানে ব্যক্তিগতভাবে আমাকে ঘায়েল করার, চরিত্র হনন করার একটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন আমি হয়েছি। তবে এ ঘটনার একটা গুরুত্বপূর্ণ ভালো দিক হলো আমি এবং দেশবাসী আমরা অনুভব করলাম যে ব্যক্তিগতভাবে শেখ হাসিনা ও ইসলামবিদ্বেষী বিদেশি শক্তি আমাদের গুরুত্ব দেয়। আমাকে তারা ভয় পায়, আমার নেতৃত্বকে তারা ভয় পায়। আমার কাছে মনে হয়েছে আমি সেই আক্রমণের জায়গা থেকে আমার ব্যক্তিসত্তাকে, আমার নেতৃত্বসত্তাকে আবিষ্কার করতে পেরেছি।
প্রথম আলো: অনেকেরই জানার কৌতূহল যে যাঁকে নিয়ে এ ঘটনা, যাঁকে আপনি স্ত্রীর পরিচয় দিয়েছিলেন, তিনি আপনার সঙ্গে আছেন কি না?
মামুনুল হক: আছেন, এখনো আমার সঙ্গে আছেন। ওই ঘটনায় তাঁর কিছু ভূমিকা নিয়ে কিছু দুর্বলতা, মানে আমি যে রকমের চাপ উপেক্ষা করেছি, তিনি সে রকম শক্তিমত্তার সঙ্গে ফেস করতে পারেননি। সেটা নিয়ে কিছু টানাপোড়েন আছে। প্রথম আলো: সোনারগাঁয়ের ঘটনার পর আরও অনেক আলেমের বিরুদ্ধে স্ত্রীর অমতে একাধিক বিয়ের বিষয়টি সামনে আসে। যেমন আপনার, জুনায়েদ আল হাবীবসহ আরও অনেকের বিরুদ্ধে। যদিও এক ব্যক্তির চার বিয়ে ইসলাম ধর্মে অনুমোদিত। তবু বাংলাদেশের সামাজিক পটভূমিতে বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখেন? মামুনুল হক: বাংলাদেশের সামাজিক পটভূমি একাধিক বিয়েকে ভালো দৃষ্টিতে দেখে না। আমরা ইসলামি শরিয়াহর আলোকে এই সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকে খুব আপত্তিকর মনে করি। কারণ, ইসলামে যেটা বৈধ এবং যার ব্যাপারে কোনো ধরনের কোনো নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার কোনো সুযোগ নেই, যে কাজটা একটা পবিত্র কাজ এবং প্রয়োজনীয় কাজ। সেটাকে সামাজিকভাবে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রাখা অথবা সেটাকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখাকে আমি কুসংস্কার মনে করি। অবশ্যই এই কুসংস্কারকে নির্মূল করা ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ধর্মীয় নেতাদের, আলেম-সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই কুসংস্কারকে রোধ করার জন্য আলেম-সমাজকে অবশ্যই সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে। এবং যাঁরা ইসলামকে প্রশ্নহীনভাবে মানেন, তাঁদের সবাইকে এই কুসংস্কার রোধ করার জন্য যাঁর যাঁর জায়গা থেকে ভূমিকা রাখা জরুরি। প্রথম আলো: একজন স্বামী কি একসঙ্গে দুই-তিন-চার স্ত্রীর সর্বক্ষেত্রে সম-অধিকার, মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারেন? মামুনুল হক: এই প্রশ্নটা খুবই আপত্তিকর। কারণ, যদি এটা না-ই সম্ভব হতো, তাহলে কোনোভাবেই আল্লাহ পাক এই বিধান দিতেন না। আল্লাহ কোরআনে জায়গায় জায়গায় বলেছেন, তিনি এমন কোনো বিধান মানুষকে দেন না, যেটা মানুষের পক্ষে পালন করা সম্ভব না।
কমেন্ট বক্স