২১ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

হাসিনার মামলার রায়ের পর ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ভাইয়ের বাড়িতে হামলা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ১৮-১১-২০২৫ ০৪:৪৬:৪২ অপরাহ্ন
হাসিনার মামলার রায়ের পর ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ভাইয়ের বাড়িতে হামলা
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আ. মান্নান মাতুব্বর ও তার ভাই ওই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকী মাতুব্বরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। 

জানা যায়, গতকাল সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের আদেশের পর আনন্দ মিছিল থেকে ওই দুই বাড়িতে হামলার এ ঘটনা ঘটেছে।

আজ মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়েনদিয়া বাজার সংলগ্ন পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মোল্লার বসতভিটার ৫০ মিটার দূরে তার ছোট ভাই সিদ্দিক মাতুব্বরের পূর্ব-পশ্চিম দিকে লম্বালম্বি ও উত্তর দিকে এল সিস্টেমের ফুল ওয়ালবিশিষ্ট বসতবাড়ির অনেক অংশই ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া চেয়ারম্যান মান্নান মোল্লার একতলা ভবনের সামনের ওয়ালের কিছু অংশ ভাঙা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনার রায় ঘোষণার পর বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া বাজারে একটি আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বাজারের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে সন্ধ্যার দিকে এক পর্যায়ে বাজার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত প্রথমে সিদ্দিক মাতুব্বরের বাড়িতে ও পরে মান্নান মাতুব্বরের বাড়িতে হামলা করে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। মান্নান মাতুব্বরের বাড়িতে হামলা চলাকালে পাশের ডহরনগর ফাঁড়ি পুলিশের কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে এলে হামলাকারীরা চলে যান।

সিদ্দিক মাতুব্বর অভিযোগ করে জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি পাশের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড়খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চুর স্বজন ও ময়েনদিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা মাহাবুব হাসান সজিবের সমর্থকরা এ হামলায় অংশ নেয়।

তিনি বলেন, আমার ভাই ইউপি চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বর মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদের মামলার একজন সাক্ষী ছিলেন। এই রেশ থেকেই আজাদের ছেলে ও স্বজনরা শেখ হাসিনার রায়ের সুবাদে আনন্দ মিছিলের নামে সোমবার আমাদের দুই ভাইয়ের বাড়িতে এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়। গত ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা দুই পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন বাড়িছাড়া। তিনি আরো বলেন, ময়েনদিয়া এলাকার ব্যবসায়ী মাহাবুব হাসান সজিব আমাদের বাড়ির আশপাশের লোকজনকে এ ঘটনার ব্যাপারে কাউকে কিছু বলতে নিষেধ করে এসেছে মঙ্গলবার সকালে।

 
তবে ঢাকা অবস্থান করে এলাকায় মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়া কিভাবে সম্ভব তার প্রশ্ন ছুড়ে এ অভিযোগ নাকচ করে আবুল কালাম আজাদের ছেলে মাসুম বিল্লাহ ওরফে জিহাদ বলেন, তিনি গত দেড় সপ্তাহ ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এ সময় তিনি বলেন, আমার বাবার বিরুদ্ধে শুধু মান্নান মাতুব্বর একা নন আরো অনেকে সাক্ষী দিয়েছেন। আমরা জানি তারা নিজে থেকে এ সাক্ষী দেননি, জোর করে দেওয়ানো হয়েছিল। জিহাদ বলেন, কোনো সাক্ষীর সঙ্গে তাদের পরিবারের খারাপ সম্পর্ক না! তবে এলাকায় কোনো ঘটনা ঘটলে তাদের নাম জড়িয়ে অভিযোগ দেওয়া এলাকার একটি ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

জানা যায়, গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ১৭ অক্টোবর সকালে মান্নান মাতুব্বর ও তার ভাই সিদ্দিক মাতুব্বরের বাড়িতে প্রথম দফা হামলা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় বোয়ালমারী থানায় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদের ছেলে ও স্বজনদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই হামলার ঘটনার পর মান্নান মাতুব্বর ও সিদ্দিক মাতুব্বর এলাকায় বসবাস করতে পারছেন না। এমনকি তাদের বাড়িতে দুই-চারজন নারী সদস্য ছাড়া কোনো পুরুষ সদস্য নেই। ওই হামলার ঘটনার ১১ মাস পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায়ের পর গতকাল সোমবার দ্বিতীয় দফায় এ হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
ময়েনদিয়া বাজার সমিতির সভাপতি ব্যবসায়ী মো. মাহবুব হাসান সজিব জানান, সোমবার বিকেলে তিনি, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে পাশের সালথা উপজেলার একটি গ্রামে একটি কাজে গিয়েছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি বাজারে ফিরে জানতে পারেন মান্নান মাতু্ব্বর ও সিদ্দিক মাতুব্বরের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। কে বা কারা এ কাজ ঘটিয়েছে তা তার জানা নেই। তবে তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। এমনকি আমার কোনো লোকজন এসব কাজে জড়িত নেই।

ডহর নগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তা এসআই আল আমীন জানান, তিনি অতিরিক্ত দয়িত্ব পালনে ভাঙ্গা এলাকায় ছিলেন। তবে তিনি এ জাতীয় কোনো ঘটনা ঘটলে তিনি বিষয়টি নিয়ে বোয়ালমারী থানার ওসির সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

 
বোয়ালমারী থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া এলাকায় গত সোমবার ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে সে বিষয়ে ডহরনগর ফাঁড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ব্যবস্থা নেবে।’

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খান বলেন, ‘এ ধরনের কোনো বিষয়ে কেউ জানায়নি সার্কেল অফিসে। গতকালকে ভাঙ্গা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার কাজে নিয়োজিত ছিলাম। স্থানীয় থানা পুলিশ হয়তো বিষয়টি জানতে পারে।’ 



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ