২০ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

গাজায় ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঝড়, অনিশ্চয়তায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ১৫-১১-২০২৫ ০৯:৩৭:৪৪ পূর্বাহ্ন
গাজায় ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঝড়, অনিশ্চয়তায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা

গাজার দক্ষিণাঞ্চলের ইতিমধ্যেই বিধ্বস্ত জনগোষ্ঠী আরেকটি আঘাতের আশঙ্কায় রয়েছে, কারণ একটি শক্তিশালী ঝড় উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ৯ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির অস্থায়ী শিবিরগুলোকে প্লাবিত করার হুমকি দিচ্ছে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেছেন, আসন্ন আবহাওয়া দুই বছরের যুদ্ধে অবকাঠামো ধ্বংস হওয়া অঞ্চলটিতে বিপর্যয়কর বন্যার সৃষ্টি করতে পারে।

খান ইউনুস পৌরসভার মুখপাত্র সাঈব লাক্কান বলেছেন, ঝড়টি উপকূল বরাবর এবং শহরের ভেতরে তাঁবুতে বসবাসরত হাজারো পরিবারের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, ধসে পড়া নর্দমা নেটওয়ার্ক, অক্ষম ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সীমা ছুঁই ছুঁই বৃষ্টির পানির ডোবা মিলে এমন এক ভূদৃশ্য তৈরি করেছে যা সামান্য বৃষ্টিও শোষণ করতে পারে না, যে প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তা তো দূরের কথা।

 

 

ফিলিস্তিনি আবহাওয়া অধিদপ্তর শুক্রবার ও শনিবার আকস্মিক বন্যার সতর্কতা দিয়েছে, বিশেষ করে গাজার উপত্যকা ও নিম্নাঞ্চলে, যেখানে পানি খুব দ্রুত সঞ্চিত হবে এবং বের হওয়ার পথ থাকবে না।

এই জরুরি অবস্থা পৌরসভার কর্মীদের জন্য এমন এক পরিস্থিতিকে আরো জটিল করছে, যাকে লাক্কান ‘অভূতপূর্ব এবং বিপর্যয়কর’ বলে বর্ণনা করেছেন। 

খান ইউনুসের ৮৫ শতাংশেরও বেশি সড়ক, পানি ও নর্দমা নেটওয়ার্ক ধ্বংস হয়ে গেছে, প্রায় এক কোটি ৫০ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ এখনো ইসরায়েলি বিমান হামলার জায়গাগুলোতে পড়ে আছে, আর প্রয়োজনীয় জরুরি সরঞ্জাম কার্যত নেই।

লাক্কানের মতে, ইসরায়েলি হামলা প্রায় দুই লাখ ১০ হাজার মিটার সড়ক, তিন লাখ মিটার পানির পাইপলাইন এবং এক লাখ ২০ হাজার মিটার নর্দমা লাইন ভেঙে ফেলেছে, যা ঝড়ের আগে শহরটিকে ‘প্রায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত’ করে দিয়েছে।

 

 

জ্বালানি সংকট অবশিষ্ট নর্দমা স্টেশনগুলোকে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১০ অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে খান ইউনুস মাত্র ১৬ হাজার লিটার ডিজেল পেয়েছে—যা পৌরসভার মাত্র তিন দিনের কাজের জন্য যথেষ্ট।

কর্মীরা অস্থায়ী সরঞ্জাম দিয়ে মাটির বাঁধ তৈরি করছে এবং উপত্যকার পানির প্রবাহ ঘন বসতির শিবির থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু লাক্কান বলেছেন, এ ধরনের প্রচেষ্টা ‘যা প্রয়োজন তার তুলনায় নিতান্তই সামান্য’।

 

 

গাজা কর্মকর্তারা বলেছেন, ইসরায়েল প্রতিদিন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে, শত শত মানুষকে হত্যা করছে এবং খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রীর প্রবেশ সীমিত করছে।

শহরের দুই ২০০ বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন নালার মধ্যে এক হাজার ৯০০টি ধ্বংস হয়ে গেছে, আর যে ক’টি বাকি আছে সেগুলো কেবল একটি জরুরি জাতিসংঘ-সমর্থিত প্রকল্পের কারণে সচল আছে।

ঝড় আসার আগে বিপর্যয় ঠেকাতে পৌরসভা জরুরি মোবাইল পাম্প এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি অত্যন্ত প্রয়োজন বলে লাক্কান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, খান ইউনুসের পরিস্থিতি ‘চরম অন্ধকারাচ্ছন্ন’ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং প্রায় ২০ লাখ বাস্তুচ্যুত বেসামরিক নাগরিককে উপকূলরেখায় বাঁচিয়ে রাখতে ধ্বংসাবশেষ সরানো, জরুরি পরিষেবা পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ এখন জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি কিছু না করা হয় ‘বন্যার সঙ্গে মৃত্যু আসবে।

 
’

 

এর আগেই বৃহস্পতিবার, জাতিসংঘের নিকট প্রাচ্য ফিলিস্তিনি শরণার্থী ত্রাণ ও কর্ম সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, যুদ্ধে দুই লাখ ৮২ হাজারেরও বেশি বাড়ি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা হাজার হাজার পরিবারকে এমন তাঁবুতে শীত কাটাতে বাধ্য করেছে যা সামান্য বৃষ্টিতেই ভেঙে পড়ে।

গত দুই শীত মৌসুমে, প্রবল বাতাস ও ভারী বর্ষণে আশ্রয়স্থলগুলো ছিন্নভিন্ন হয়েছে এবং ব্যক্তিগত সম্পদ কাদায় ডুবে গেছে।

ইউএনআরডব্লিউএ কমিশনার-জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চতুর্থ কমিটিতে বলেছেন, সংস্থাটি এখন গুরুতর অর্থ সংকটে রয়েছে, যা লাখ লাখ শরণার্থীর জীবনরক্ষাকারী সেবা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

ইসরায়েলের অভিযোগ, ইউএনআরডব্লিউএ কর্মীরা ৭ অক্টোবরের অনুপ্রবেশে অংশ নিয়েছিল—এর পর কয়েকটি দাতা দেশ অর্থায়ন স্থগিত করেছে। সংস্থার দাবি, বহুবার অনুরোধ করার পরেও ইসরায়েল এসব অভিযোগের কোনো প্রমাণ দেয়নি। এর ফলে ২০২৫ সালের শেষ ভাগ থেকে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ২০০ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

গাজার বাস্তুচ্যুতি সংকট মাসে মাসে আরো গভীর হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের শেষে উপত্যকার গণমাধ্যম অফিস জানিয়েছে, ৯৩ শতাংশ তাঁবু ভেঙে পড়েছে এবং আর নিরাপদ নয়।

সূত্র : ডেইলি সাবাহ



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ