আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টি আসনে মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ঝিনাইদহের চারটি আসনের মধ্যে মাত্র একটিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি রয়েছে ঝিনাইদহ ১, ২ ও ৪ আসন।
গুঞ্জন উঠেছে ঝিনাইদহ-২ আসন (সদর ও হরিণাকুণ্ডু) ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে মিত্র দলের জন্য।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ-২ আসন বহুদিন ধরেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই আসনের রাজনীতি মূলত ঘুরে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ত্যাগ, আন্দোলন ও দীর্ঘ সংগ্রামের ওপর ভর করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঝিনাইদহ-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা না করে শরিক দলকে আসনটি ছেড়ে দিলে এ আসনে বিএনপির জনসমর্থন গভীর সংকটে পড়বে। গত ১৭ বছর ধরে যারা ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে রাজপথে থেকে দলকে শক্ত অবস্থানে রেখেছেন, হামলা-মামলা গ্রেপ্তার সহ্য করে সংগঠন ধরে রেখেছেন, তারাই বঞ্চিত হবেন। তাই প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে সেই বাস্তবতা উপেক্ষা করা হলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
জেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক সাকিব আহমেদ বাপ্পি বলেন, ঝিনাইদহ-২ আসনে এমন অনেক পরিবার রয়েছে, যাদের সদস্যরা বছরের পর বছর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
জেলা পূজা ফ্রন্টের আহ্বায়ক মিলন কুমার ঘোষ বলেন, ‘৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে একটা গোষ্ঠী নানাভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। তবে এ ঘটনা ঝিনাইদহে একটিও ঘটেনি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, ‘এই মুহূর্তে ঝিনাইদহ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী প্রয়োজন। দীর্ঘ ১৭ বছর হামলা-মামলা, জেল-জুলুমের পর একটা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুয়োগ আমরা পেয়েছি। তাই এই আসন থেকে মিত্র দলের প্রার্থীকে মনোনয়ন নয়, বিএনপির প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া জরুরি।
এ ব্যাপারে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নেতা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আজ বৃহস্পতিবার যশোরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসেছিলেন। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে।’