উম্মাহ চেতনা ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী ইসলামী চেতনার কন্ঠস্বর
উম্মাহ চেতনা ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী ইসলামী চেতনার কন্ঠস্বর Nationaltimes24.com (সর্বাক্ষণিক আপডেট পেতে পেইজে ফলে দিয়ে রাখুন)।
জুলাই গনভূত্থানের পর বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী শক্তি ও ইসলামী ধারার রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক বিপ্লবের যে রূপরেখা ও ধারা বেগবান হয়েছিল এটিকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তোলতে প্রয়োজন বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও নিরপেক্ষ আর্দশিক গনমাধ্যম। এদেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর চিন্তা চেতনা আর মন মস্তিষ্ক ও চেতনাকে ধারণ করে মিডিয়া খুব গড়ে উঠেনি স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও। ফলে গনমাধ্যমের বড় অংশ জনসাধারণের ভাষার প্রতিনিধিত্ব করে না।
গোটি কয়েক বিনোদন, সংস্কৃতি আর খেলাধুলায় এখানে লেখা হয় পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা। বড় বড় লিড হয় জনবিচ্ছিন্ন নারীবাদী আর পশ্চিমা সাংস্কৃতির খবরা খবরে। করা হয় উদ্ভট বিষয়ে দিনের পর দিন গোল টেবিল বৈঠক। লেখা হয় তা পাতার পর পাতা। এখান থেকেি নিয়ন্ত্রণ করা হয় রাষ্ট্র, রাজনীতি, কর্পোরেট (বাব্যসা বানিজ্য, অর্থনীতি) সবকিছু। বাংলাদেশে মিডিয়া জগত হলো পশ্চিমা ও পাশ্ববর্তী হিন্দুত্ববাদী সামাজ্রের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক আগ্রাসণের প্লাটফর্ম। যা একটি মুসলিম জনপদে অপসংস্কৃতি নিয়ন্ত্রণ ও বুদ্ধিভিত্তিক আগ্রাসনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তারকারী হিসাবে গনমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এবিষয়ে বললে দীর্ঘ কথা বলা যাবে। আর সত্য নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা আরে কঠিন।
বাংলাদেশে আস্থাশীল, সত্য ও আস্থাশীল বস্তুনিষ্ঠ গনমাধ্যমের সংকট এখনো রয়ে গিয়েছে। ইসলামী ধারার বা আর্দশিক মানুষপর কন্ঠস্বর হিসাবে এখনো বস্তুনিষ্ঠ গনমাধ্যম খুব চোখে পড়ে না। এই শূন্যতা পূরনেই একটি আর্দশিক ধারার গনমাধ্যম হিসাবে www.nationaltmes24.com পথচলা শুরু করেছে ইতোমধ্যে আলহামদুলিল্লাহ। আমি অধম এর সম্পাদক এর দায়িত্বে আছি। সাথে আছেন একঝাঁক নিরলস কর্মট সাংবাদিক। দেশব্যাপী একদল মেধাবী প্রতিনিধি।
আসলে বাংলাদেশের মতো দেশে গণমাধ্যমের আলোচনায় বস্তুনিষ্ঠতা আর নিরপেক্ষতার আলোচনা সত্যিকার অর্থে এক কঠিন কাজ। জীবনভর রাজনৈতিকরা, আমলারা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলে এসেছেন, গণমাধ্যম ও সাংবাদিককে হতে হবে বস্তুনিষ্ঠ, পক্ষপাতহীন, ভারসাম্যপূর্ণ এবং তাদের সব কাজে থাকবে ন্যায্যতা। কিন্তু এসব পরিভাষার সাথে নিরপেক্ষতার সম্পর্ক সৃষ্টি করাটা বেশ কঠিন। এর এই চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই আমরা পথচলা আরম্ভ করেছি।
এখন সব মূলধারার মিডিয়া যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে সেটা হলো, নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের প্রাসঙ্গিক রাখা। এই প্রজন্ম ইউটিউব ও টিভির খবর শুনতে অনাগ্রহী। রিলিস ও শর্ট ফেসবুক ভিডিও দেখতে চায়। টিকটকে তার উদগ্রীব! এই সময় তাদের জন্য দরকার এমন ব্যবস্থা করা, যাতে তারা তাৎক্ষণিকভাবে সব খবর জানতে পারে। তাদের জন্য মোবাইলে আপডেট খবর থাকবে। অপেক্ষায় থাকা চলবে না, আবার একই সঙ্গে সেই তথ্য হতে হবে সঠিক। সামাজিক মিডিয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে সারাক্ষণ।
আমরা মনে করি কোনো সাংবাদিক যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বচ্ছভাবে কাজ করে তাহলে সে-ও সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা প্রদানের ফজিলত পাবে, ইনশাআল্লাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ গর্হিত কাজ হতে দেখলে সে যেন স্বহস্তে (শক্তি প্রয়োগে) পরিবর্তন করে দেয়, যদি তার সে ক্ষমতা না থাকে, তবে মুখ (বাক্য) দ্বারা এর পরিবর্তন করবে।
আমি বিশ্বাস করি, ঈমানদার সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে ঠিক সেই কাজটাই করেন। তাঁরা সামাজিক উন্নয়ন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, সত্য-সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে কলমের মাধ্যমে লড়াই করেন। তাই আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলা যায়, যদি কোনো সাংবাদিক সহিহ নিয়তে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় তাঁর দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন, তাহলে তাঁর এই পেশাও আমরু বিল মারুফ, নাহি আনিল মুনকার হিসেবে পরিগণিত হবে, ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তাওফিক দান করুন
কমেন্ট বক্স