নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার নল্লাপাড়া এলাকায় মহাদেও নদীর ওপর নির্মিত নল্লাপাড়া সেতুটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। দুই প্রান্তের সংযোগ সড়কের মাটি ধসে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই শতাধিক যানবাহন ও হাজারো মানুষ জীবনবাজি রেখে এ সেতু দিয়ে চলাচল করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৭ মিটার দীর্ঘ এ সেতুটি ১৯৯৮ সালে ধসে যাওয়া একটি পুরনো সেতুর পরিবর্তে নির্মিত হয়।
পাশাপাশি সুনামগঞ্জের তাহেরপুর, মধ্যনগর ও নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী পাঁচগাঁও, মহেশখলা এলাকার বাসিন্দারাও এ সেতুর ওপর নির্ভরশীল।
প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মানুষ ও অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে এই পথে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর পশ্চিম প্রান্তের মাটি নদীতে ভেসে গিয়ে প্রায় ২০ ফুট লম্বা গর্ত তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পাহাড়ি ঢল ও অবৈধ বালু তোলার ফলে নদীর তীর ভেঙে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, প্রতিবার বর্ষায় নদীর স্রোতে সেতুর দুই পাশের মাটি ভেঙে যায়। বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। তখন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান পাঠান বলেন, এটি এলজিইডির আওতাধীন সেতু। বারবার বিষয়টি জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। স্থানীয়ভাবে মেরামত করলেও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
কলমাকান্দা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর পাশে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বসানো হয়েছে। অস্থায়ীভাবে স্ল্যাব দিয়ে চলাচল সচল রাখা হয়েছে। খুব দ্রুত পাশেই বিকল্প ডাইভারশন রাস্তা তৈরি করা হবে।
জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, সেতুটির পরিবর্তে ৫২ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি নতুন সেতুর নকশা অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পেলে দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।