২০ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

বিপজ্জনক ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন লাহোর

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ২৭-১০-২০২৫ ০৫:৫৩:৪৪ অপরাহ্ন
বিপজ্জনক ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন লাহোর

পাকিস্তানের লাহোর সোমবার বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করেছে। ঘন ধোঁয়াশা শহর এবং এর আশপাশে ছেয়ে থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বায়ুমান পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম আইকিউ এয়ার অনুসারে, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৬টার দিকে শহরটির ইউএস এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছিল ৩০৮, যা বিপজ্জনক হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ।

পরে দুপুর নাগাদ দূষণের মাত্রা কমে ২৪৫ হয়, যা তখনও ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’  হিসেবে চিহ্নিত।

 
এ সময় পিএম২.৫ কণার ঘনত্ব ছিল প্রতি ঘনমিটারে ১৪৮ মাইক্রোগ্রাম, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বার্ষিক নির্দেশিকা মানের তুলনায় উদ্বেগজনকভাবে ২৯.২ গুণ বেশি।

 

এই বিষাক্ত ধোঁয়াশা কয়েক দিন ধরে প্রদেশটিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে, যার ফলে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া ছাড়াও গলা জ্বালা, শ্বাসকষ্ট এবং চোখ চুলকানোর মতো ব্যাপক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বাসিন্দাদের বাড়ির বাইরের কার্যকলাপ সীমিত করতে এবং প্রয়োজনে প্রতিরক্ষামূলক মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন।

পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকায পাঞ্জাব স্কুল শিক্ষা বিভাগ রবিবার প্রদেশের এই ক্রমবর্ধমান ধোঁয়াশার প্রতিক্রিয়ায় স্কুলের সময়সূচি সংশোধন করেছে।

 

 

এদিকে করাচিতে ইউএস এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছিল ১২৭, যা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ। উপকূলীয় এই শহরটির পিএম২.৫ ঘনত্ব ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৪৫.৯ মাইক্রোগ্রাম, যা নির্দেশিকা মানের চেয়ে ৯.২ গুণ বেশি।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিও উল্লেখযোগ্য বায়ু দূষণের সম্মুখীন হচ্ছে। ২২১ একিউআই নিয়ে এটি বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, যা খুব অস্বাস্থ্যকর হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ।

 

 

এই মারাত্মক বায়ু মানের অবনতি শীতকালের আগমনের সঙ্গে মিলে যায়। এই সময়ে পাঞ্জাবজুড়ে শীতল তাপমাত্রা, স্থবির বাতাস এবং যানবাহন, কারখানা ও ফসল পোড়ানো থেকে নির্গত ধোঁয়া দূষণকারী কণাকে মাটির কাছাকাছি আটকে রাখে।

প্রতি শীতেই দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ অঞ্চলে দূষণ বৃদ্ধি পায়, কারণ শীতল বাতাস পৃষ্ঠের কাছাকাছি সূক্ষ্ম কণাগুলোকে আটকে ফেলে। পরিবহন, কারখানা, নির্মাণ কাজের ধুলো এবং ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো থেকে নির্গত ধোঁয়া—এ সবই ঘন ধোঁয়াশার সৃষ্টিতে অবদান রাখে, যা সপ্তাহব্যাপী স্থায়ী হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন, এত উচ্চ মাত্রার দূষণের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতাসহ গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে, যা দক্ষিণ এশিয়ার কোটি কোটি মানুষের জন্য একটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণ।

 

 

সূত্র : জিও টিভি



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ