রোপা আমন মৌসুমে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় আগাম জাতের ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠে ইতিমধ্যে ধান সবুজ থেকে সোনালি রঙে রূপ নিতে শুরু করেছে। কৃষকরা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অচিরেই ঘরে উঠবে নতুন ধান।
ফসলের সুরক্ষা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে আলোক ফাঁদ, উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। কৃষকরা এবার ব্রি ধান-৪৯, ব্রি ধান-৭৫, ব্রি ধান-৯০, ব্রি ধান-৯৩, ব্রি ধান-১০৩, স্বর্ণা-৫, পারিজা, হাইব্রিড-৫, বিনা ধান-১৭, বিনা ধান-২৬ ও সুগন্ধিসহ বিভিন্ন জাতের ধান রোপণ করেছেন।
আজ সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, ধানের শীষে বাতাসে দোল খাচ্ছে সোনালি আভা। মাঠজুড়ে ধানের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখে কৃষকের মনে বইছে নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দ।
উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের তিয়রপাড়া গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন, উপর পোঁওতা গ্রামের সোহানুল ইসলাম ও ছোট জিনোইর গ্রামের সোহাগ হোসেন বলেন, এ বছর আমনক্ষেত বেশ ভালো আছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ফসলের অবস্থা ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের তুলনায় এবার আগাম জাতের ধানের ফলন আরো বেশি হবে।’ তিনি আরো জানান, ধান কাটার পর সেই জমিগুলোতে সরিষা চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে কৃষকরা একই মৌসুমে দুই ফসলের সুযোগ পান।