মানিকগঞ্জে পিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের জমিতে নিরাপত্তাপ্রাচীর তৈরিতে বাধা দিয়েছে এলাকাবাসী। রবিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে পিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের নিরাপত্তাপ্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে স্থানীয়রা তাতে বাধা দেয়।
এর আগে গত ২০ জুন পিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের নিরাপত্তাপ্রাচীর ভেঙে ৮-১০ ফুট প্রশস্ত করে রাস্তা নির্মাণ করে এলাকাবাসী। এই রাস্তার দাবিতে দফায় দফায় আন্দোলন, মানববন্ধনসহ ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছিল স্থানীয়রা।
অবশেষে এলাকাবাসী প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তাপ্রাচীর ভেঙে তাদের হাঁটা রাস্তা বানায়। এ ব্যাপারে পিল ইঞ্জিনিয়ারিং কর্তৃপক্ষ গ্রামবাসীকে আসামি করে একটি মামলা করে। যা বর্তমানে চলমান।
এ ছাড়া পিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড কর্তৃপক্ষ তাদের জমি ফেরত এবং নিরাপত্তাপ্রাচীর নির্মাণের দাবিতে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন।
হাইকোর্ট পিল কর্তৃপক্ষের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে নিরাপত্তাপ্রাচীর নির্মাণের আদেশ দেন।
এরপর রবিবার (১৯ অক্টোবর) পিল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাপ্রাচীর নির্মাণ করতে গেলে এলাকাবাসীর বাধার মুখে পড়ে। এলাকাবাসীর দাবি, যেকোনো মূল্যে তাদের তৈরি করা রাস্তা রক্ষা করবে।
এ ব্যাপারে পিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের জিএম মাসুম হাওলাদার বলেন, ‘আমরা হাইকোর্টের নির্দেশে আমাদের নিজস্ব জমিতে নিরাপত্তাপ্রাচীর করতে চাচ্ছি।
এলাকাবাসী জোর করে আমাদের কাজ করতে দিচ্ছে না। এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) অবহিত করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বিবাদমান ইস্যুটি একটি চলমান রাস্তাকেন্দ্রিক। যেটি দিয়ে হাজার হাজার লোক চলাচল করছে। সেহেতু প্রথমেই শক্তি প্রয়োগ করলে অসংখ্য প্রানহানির আশঙ্কা থাকে।
তাই প্রথমেই উত্তেজিত জনতার ওপর বল প্রয়োগ না করে শান্তিপূর্ণভাবে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ বিভাগ চেষ্টা করে। কিন্তু কম্পানির কোনো পূর্বপ্রস্তুতি না থাকায় এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর আগেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় কাজ করা সম্ভব হয়নি।’
সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলে আমি ফোর্সসহ উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু কম্পানির লোকজনের কাজ করার সরঞ্জামাদি পর্যাপ্ত না থাকায় নিরাপত্তাপ্রাচীর করা সম্ভব হয়নি।’