কক্সবাজারের ভারুয়াখালী ও খুরুশকূল—দুটি পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে সংযোগের একমাত্র আশার প্রতীক হয়ে আছে জোয়ারি খালের ওপর অর্ধনির্মিত একটি সেতু। ৯ বছর আগে একনেকে অনুমোদন পাওয়া এই সেতুর কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। ফলে দেড় লাখেরও বেশি মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটছে না।
অর্ধনির্মিত এই সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় তেতৈয়া ঘাট এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৯২ মিটার দীর্ঘ ব্রিজটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৩৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০১৬ সালে অনুমোদন পায় এবং তমা কনস্ট্রাকশন ও এম এ জাহের (জেবি) লিমিটেড যৌথভাবে কাজের দায়িত্ব নেয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও মূল অংশের কাজ কার্যত বন্ধ রয়েছে। যেখানে প্রতিদিন ১০০-১৫০ জন শ্রমিক কাজ করার কথা, সেখানে মাত্র চার-পাঁচজন কর্মীকে নিয়ে নামমাত্র কাজ চলছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের অবহেলার কারণেই কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে।
মানববন্ধনে দৈনিক সমকাল-এর সম্পাদকীয় বিভাগের সহসম্পাদক ও স্থানীয় ভারুয়াখালীর বাসিন্দা ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ‘অন্তত আমরা আশা করেছিলাম, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং কক্সবাজার প্রশাসন এ বিষয়ে আন্তরিকতা দেখাবেন। কিন্তু অবহেলা ও তদারকির অভাবে কাজ থমকে আছে। দ্রুত উদ্যোগ না নিলে জনগণের ক্ষোভ আরো বাড়বে।’
ভারুয়াখালী দারুল উলুম আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ বদরুল আলম বলেন, ‘ব্রিজের অভাবে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে রয়েছেন। অল্প কাজ বাকি থাকা সত্ত্বেও বছর বছর প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে—এটা জনস্বার্থবিরোধী।
এলাকার তরুণ ব্যবসায়ী তারেক আল আজিজ বলেন, ‘প্রশাসনের নজরদারির অভাবে আমরা বছরের পর বছর কষ্ট পাচ্ছি। দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করা না হলে জনগণ আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ব্রিজটির বাকি কাজ সম্পন্ন করা হলে ভারুয়াখালী ও খুরুশকূলের মানুষের দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা ও দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।