এক আলজেরীয় নারী প্যারিসে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে বিচারাধীন হয়ে শুক্রবার আদালতে নিজের ‘ভয়াবহ’ কাজের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। এ ঘটনা ফ্রান্সজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং ডানপন্থী রাজনীতিকরা বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে উদ্যোগী হন।
তিন বছর আগে ফরাসি রাজধানীর উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে লোলা দাভিয়ে নামের ওই কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর দাহবিয়া বেঙ্কিরেদ নামের ২৭ বছর বয়সী ওই নারী গ্রেপ্তার হন। লোলার পরিবারের বসবাস করা ভবনের লবিতে থাকা একটি ট্রাঙ্কের ভেতর তার মরদেহ পাওয়া যায়।
ঘটনার পর রক্ষণশীল ও অতি-ডানপন্থী রাজনীতিকরা অভিবাসন আইন আরো কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি তোলেন। কারণ, বেঙ্কিরেদ তার শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে ফ্রান্সে অবস্থান করছিলেন এবং দেশ ছাড়ার নির্দেশ অমান্য করেছিলেন।
তবে লোলার মা রাজনীতিকদের অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন তারা তার মেয়ের মৃত্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না করেন।
আদালতে শুক্রবার লোলার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সাদা টি-শার্ট পরেছিলেন, যাতে লোলার হাস্যোজ্জ্বল ছবি এবং লেখা ছিল, ‘তুমি ছিলে আমাদের জীবনের সূর্য, তুমি হবে আমাদের রাতের তারা।’
লোলার মা ডেলফিন দাভিয়ে বলেন, ‘আমি শুধু ন্যায়বিচার চাই।’
বেঙ্কিরেদ একঘেয়ে কণ্ঠে বলেন, ‘আমি পুরো পরিবারের কাছে ক্ষমা চাই।
মানসিক পরীক্ষায় তাকে বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার উপযুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দাহবিয়া বেঙ্কিরেদের মানসিক অবস্থা মূল্যায়ন করে জানান, তার মধ্যে ‘প্রভাব বিস্তারমূলক আচরণ’ দেখা গেলেও তিনি কোনো ‘গুরুতর মানসিক রোগে’ ভুগছিলেন না।
ভুক্তভোগী লোলার ভাই থিবো দাভিয়ে আদালতে অভিযুক্তের উদ্দেশে বলেন, ‘পুরো সত্যটি বলুন—শুধু সত্যটাই বলুন।
তদন্তে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৪ অক্টোবর প্যারিসের ১৯ নম্বর জেলায় অবস্থিত ওই ভবনের লবিতে বেঙ্কিরেদকে দেখা যায়, তিনি স্যুটকেস ও একটি ভারী ট্রাঙ্ক বহন করছিলেন, যা একটি কম্বল দিয়ে ঢাকা ছিল।
এর দেড় ঘণ্টা আগে নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, স্কুল থেকে ফেরার পথে লোলার সঙ্গে কথা বলেন বেঙ্কিরেদ এবং তাকে তার বোনের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান, যা একই ভবনের মধ্যেই ছিল।
বেঙ্কিরেদ ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন এবং কাঁচি ও বক্স কাটার দিয়ে আঘাত করেন। পরে তিনি মেয়েটির শরীর ও মুখ স্কচটেপ পেঁচিয়ে দেন, যার ফলে শ্বাসরোধ হয়ে লোলার মৃত্যু হয়।
এরপর তিনি লোলার মরদেহ ট্রাঙ্কের ভেতর রেখে ভবন থেকে বেরিয়ে যান।
তদন্তকারীদের মতে, এরপর বেঙ্কিরেদ এক বন্ধুকে রাজি করান ট্রাঙ্কসহ তাকে তার বাড়িতে পৌঁছে দিতে। পরে তিনি একই ট্রাঙ্ক নিয়ে ট্যাক্সিতে করে আবার তার বোনের বাসায় ফেরেন। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন দেখতে পেয়ে তিনি পালিয়ে যান, তবে পরদিনই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।