সহযোগীদের খবর: আজকের গনমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম!
সহযোগীদের খবর: আজকের গনমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম!
আপলোড সময় :
১৪-০৮-২০২৫ ০৬:২৮:১৬ অপরাহ্ন
দৈনিক প্রথম আলো
‘জুলাই সনদ ঘিরে বিএনপিকে চাপে রাখতে চায় এনসিপি’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবসে ৫ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন, তা নিয়ে মনঃক্ষুণ্ণ হলেও কড়া প্রতিক্রিয়া দেখায়নি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে তারা দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। এই সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়নের পদ্ধতির ব্যাপারে এনসিপি ছাড় দিতে রাজি নয়।
এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ পাঁচজন নেতার সঙ্গে কথা বলে এই মনোভাবের কথা জানা গেছে। তাঁরা বলছেন, জুলাই সনদের বিষয়টি সুরাহা হওয়ার পর তাঁরা নির্বাচনমুখী কার্যক্রমে মনোযোগ দেবেন।
এনসিপি মনে করে, জুলাই ঘোষণাপত্র, নির্বাচনের সময় নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির চাওয়াকেই প্রাধান্য দিয়েছে সরকার। এখন জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির বিষয়টি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিএনপি যাতে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য দলটির ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে চায় এনসিপি।
এরই অংশ হিসেবে এনসিপির কোনো কোনো নেতা জাতীয় নির্বাচনের ঘোষিত সময়সীমা নিয়ে ভিন্ন সুরে বক্তব্য দিচ্ছেন। দলটি চাইছে বিএনপি জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার বিষয়ে দ্রুত সম্মত হোক। এনসিপির একটি সূত্র জানায়, তারা জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে যে বিশেষ শোরগোল করেনি, সেটা তাদের দিক থেকে একধরনের ‘ছাড়’। এর মধ্য দিয়ে বিএনপিকে একটা বার্তা দিয়েছে তারা, যাতে বিএনপি জুলাই সনদ প্রশ্নে অন্য দলগুলোর চাওয়াকে গুরুত্ব দেয়।
এনসিপির নেতাদের ভাষ্য, অতীতে দেখা গেছে, একচ্ছত্র ক্ষমতার কারণে সরকারি দল বিরোধ দলগুলোকে কার্যত নিশ্চিহ্ন করে ফেলে। জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই ধারায় পরিবর্তন আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পাশাপাশি অন্তত সংসদের উচ্চকক্ষে পিআর (সংখ্যানুপাতিক) পদ্ধতি চালু হলে দেশে একটা ন্যূনতম রাজনৈতিক ভারসাম্য তৈরি হতে পারে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত হলো সংসদের উচ্চকক্ষ হবে ১০০ আসনবিশিষ্ট। এই সদস্যরা মনোনীত হবেন পিআর পদ্ধতিতে। যদিও এ বিষয়ে বিএনপিসহ কয়েকটি দলের ভিন্নমত আছে।
যদিও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির বিষয়ে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে দলটির নেতারা বলে আসছেন। কিন্তু ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় ভিন্নমতের কারণে উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপি শেষ পর্যন্ত সম্মত হবে কি না, এ নিয়ে সংশয় আছে এনসিপির। এ জন্য তারা বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে। এই ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের অবস্থানও প্রায় একই রকম।
এ বিষয়ে রাজনীতিবিষয়ক লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, এগুলো একেক দলের রাজনৈতিক অবস্থান। প্রতিটি দলই নির্বাচনী দৌড়ে আছে। এ জন্য তারা পরস্পরকে চাপে রাখবে, এমনকি সরকারকেও চাপে রাখবে, এটা স্বাভাবিক। তিনি বলেন, আজকে এনসিপি যদি মনে করত তারা নির্বাচন করে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৬০ আসন পাবে, তারা পিআরের পক্ষে বলত না। আবার বিএনপি যদি মনে করত তারা ৭০ আসন পাবে, তারা পিআরের পক্ষে বলত।
‘তবে ভোটারের মতামতের প্রতিফলনটা আমরা গতানুগতিকভাবে যেভাবে দেখে আসছি, সেটার একটু পরিবর্তন হওয়া বাঞ্ছনীয়’ বলে মনে করেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
হঠাৎ ভিন্ন বক্তব্যের নেপথ্যে
এনসিপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার তাদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। কিন্তু বিএনপির মূল মনোযোগ কেবল নির্বাচনকেন্দ্রিক। এনসিপির কেউ নির্বাচন নিয়ে নেতিবাচক কিছু বললে বিএনপি সেটার পেছনে ষড়যন্ত্র খোঁজে, শঙ্কিত হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এমন পরিস্থিতিতে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির বিষয়ে বিএনপিকে নমনীয় করতে নির্বাচন নিয়ে প্রায়ই ভিন্ন সুরে বক্তব্য দিতে দেখা যায় এনসিপির নেতাদের। গত মঙ্গলবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন,‘বর্তমান সময়ে ইলেকশনের ডেট ঘোষণা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। যদি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয়, আমার যে ভাইয়েরা শহীদ হয়েছিল, রক্ত দিয়েছিল সংস্কারের জন্য, একটি নতুন সংবিধানের জন্য, তাহলে কবরে গিয়ে তার লাশটা ফেরত দিতে হবে এই সরকারকে।’
একই অনুষ্ঠানে নাসীরুদ্দীন ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরেরও (ডিজিএফআই) কড়া সমালোচনা করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ ডিজিএফআইয়ের সংস্কারের দাবি জানান। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানটিকে নিষিদ্ধ করে দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন।
এনসিপি নেতারা জানান, সম্প্রতি হাসনাত, নাসীরুদ্দীনসহ এনসিপির পাঁচ নেতার কক্সবাজার সফর নিয়ে যে গুজব ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, সেটার জন্য তাঁরা ডিজিএফআইকে সন্দেহ করেন। তাঁদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে বলেও তাঁরা মনে করেন। এসব ক্ষোভ থেকে মঙ্গলবার এমন বক্তব্য এসেছে বলে দলীয় সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে।
নির্বাচনী চিন্তা
এদিকে জাতীয় নির্বাচনের আগেই মাঠপর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে চায় বলে এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন। জুলাই মাসজুড়ে সারা দেশে জেলায় জেলায় যে পদযাত্রা করেছেন, সেটার মাধ্যমে এনসিপির সমর্থন কোথায় কেমন, সে বিষয়ে একটি ধারণা পেয়েছেন দলের নেতারা। পদযাত্রায় ভালো সাড়া পাওয়া গেছে, এমন দুই শতাধিক উপজেলায় শিগগিরই সমাবেশ করার চিন্তা করছে দলটি। এর মধ্য দিয়ে ভোটের প্রস্তুতিতে ঢুকতে চায় তারা।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব গতকাল বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির বিষয়টি সুরাহা হওয়ার পর আমরা নির্বাচন নিয়ে ভাবব।’
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘খাদ্য মূল্যস্ফীতির সূচকে লাল তালিকায় বাংলাদেশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধির সূচকে এখনো বিশ্বব্যাংকের লাল তালিকায় বাংলাদেশ। ২০২১ সালের জুন থেকে গত জুলাই পর্যন্ত অর্থাৎ সোয়া ৪ বছর ধরে বাংলাদেশ লাল তালিকায় অবস্থান করছে। আলোচ্য সময়ে প্রতি মাসে বাংলাদেশের খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ৫ শতাংশের উপরে। একই সময়ে প্রতি মাসে গড়ে খাদ্যপণ্যের দাম সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। পণ্যভেদে দাম আরও বেশি বেড়েছে।নির্বাচিত কলামবাংলাদেশের পোশাক
খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধির সূচকে ৫ শতাংশের নিচে নামলেই লাল বা ঝুঁকিপূর্ণ তালিকা থেকে বের হতে পারবে বাংলাদেশ। এর আগে সর্বশেষ ২০২১ সালের মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ৫ শতাংশের কম বেড়েছিল অর্থাৎ ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এরপর থেকে এ হার ৫ শতাংশের উপরে রয়েছে। বৈশ্বিক খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ গত সোয়া ৪ বছরের বেশি সময় ধরে এই লাল বা ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অবস্থান করছে। গত রোজার সময় থেকে জুন পর্যন্ত অনেক পণ্যের দাম কমলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবার বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যপণ্য চাল, সবজি, ডিম, মুরগিরর দাম বাড়ছে। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে লাল তালিকা থেকে সহসা বের হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যেসব দেশ খাদ্য মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে লাল ও পিঙ্গেল বর্ণের (কালচে লাল বা তামাটে রং) তালিকায় থাকবে ওইসব দেশের মুদ্রার মান স্থিতিশীল নয় বলে ধরে নেওয়া হয়। ফলে ওইসব দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের আগে অর্থনৈতিক সূচকগুলোর ক্ষেত্রে ডলারের প্রবাহ, দাম ও মূল্যস্ফীতির হার সবার আগে পর্যালোচনা করে।বাংলাদেশের পোশাক
কালের কণ্ঠ
‘কিশোর গ্যাং বেপরোয়া’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে কিশোর অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ঢাকার কাছের শিল্পনগরী গাজীপুরে গড়ে উঠেছে কিশোর অপরাধীদের কমপক্ষে ৩০টি চক্র। চট্টগ্রামে ‘বড় ভাই’ পরিবর্তন করে সংগঠিত হচ্ছে এই অপরাধীরা। পর্যটন শহর কক্সবাজারে শতাধিক চক্রের বেশির ভাগ সদস্যই রোহিঙ্গা।
রাজশাহী মহানগরের ৩০টি ওয়ার্ডেই আগে গড়ে ওঠা সব চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সিলেটে টমটমচালকদের মধ্যেও কিশোর অপরাধী রয়েছে। ময়মনসিংহ মহানগরের পার্ক এলাকায় কিশোরদের দাপটে দর্শনার্থীরা পড়ে বিপাকে। খুলনায়ও রয়েছে দাপুটে চক্র।
কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে বিভিন্ন স্থানে কিশোর অপরাধীদের বিষয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।
পুলিশ কোথাও এই অপরাধীদের তালিকা তৈরি করছে, কোথাও অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের ধরাও হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি আরো বাড়াতে হবে। বিভিন্ন জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত বৈঠকে এই অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে আড্ডা দেওয়া বন্ধ, অভিভাবকদের সচেতন ও কাউন্সেলিং করা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর মতামত এসেছে।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর ‘ইনসুলিনের বাজারমূল্য নিয়ে নৈরাজ্য’। খবরে বলা হয়, ডায়াবেটিস রোগীদের জীবন রক্ষার অন্যতম ওষুধ ইনসুলিন উত্পাদনে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান উত্পাদন প্রায় বন্ধ করে দিচ্ছে। ইনসুলিন উত্পাদনকারী ওষুধ কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা দেশে গুণমানসম্পন্ন ইনসুলিন ২০০৭ সাল থেকে তৈরি করে আসছে। দেশীয় উত্পাদিত গুণমানসম্পন্ন ইনসুলিনের বাজারমূল্যের চেয়ে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ইনসুলিনের বাজারমূল্য দ্বিগুণেরও বেশি। এতে বিপাকে পড়েছে দেশি ওষুধ কোম্পানি এবং ডায়াবেটিস রোগীরা। ইনসুলিনের মূল্য বৈষম্যের কারণে উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও উত্পাদনকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই মূল্য বৈষম্যের কারণে দেশ থেকে প্রচুর ডলারও বিদেশ চলে যাচ্ছে।নির্বাচিত কলাম
এদিকে আমদানিকৃত ইনসুলিনের ওপর প্রাইজ বেনিফিট দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ইনসুলিন তৈরির কাঁচামালের মূল্য বেড়েই চলেছে। এতে দেশে উত্পাদিত ইনসুলিনের খরচ বাড়ছে। সরকার দেশে উত্পাদিত ইনসুলিনের যৌক্তিক মূল্য সামঞ্জস্য না করার কারণে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন ওষুধ উত্পাদনকারীরা। মানসম্পন্ন ইনসুলিন উত্পাদন করার ক্ষমতা দেশ অনেক আগেই অর্জন করেছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের রোগীরা সাশ্রয়ী মূল্যে দেশে তৈরি ইনসুলিন ক্রয় করছে। অন্যদিকে আমদানিকৃত একই মানের ইনসুলিন বেশি দামে অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি হচ্ছে বলে ওষুধ শিল্প সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
দেশে একটি নামদামি ওষুধ উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অন্যতম কর্ণধার ইত্তেফাককে বলেন, আমদানিকৃত ইনসুলিন যে কাঁচামাল দিয়ে তৈরি সেই একই মানের কাঁচামাল দিয়ে দেশে তৈরি হচ্ছে ইনসুলিন। এতে ইনসুলিনের গুণমান নিয়ে কোনো ধরনের পার্থক্য নেই বলে তিনি জানান। দেশের স্বনামধন্য বেশ কয়েকটি ওষুধ উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান অনেক আগ থেকে ইনসুলিন উত্পাদন করে আসছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে অনেক দেশে ইনসুলিন রপ্তানিও করা হচ্ছে। ঐসব দেশে বাংলাদেশের উত্পাদিত ইনসুলিন গুণমান নিয়ে প্রশংসা অর্জন করছে এবং চাহিদা বেড়ে চলেছে। বেশ কয়েক জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেছেন, ‘আমাদের দেশে উত্পাদিত ইনসুলিনের গুণমান উন্নতমানের।’বাংলাদেশের পোশাক
নয়া দিগন্ত
‘উত্তরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা’-এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব ক’টি গেট খুলে দেয়ায় সৃষ্ট ঢল এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
উজান থেকে নেমে আসা পানি প্রবলবেগে তিস্তায় আছড়ে পড়ার কারণে ডালিয়া ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। গতকাল তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তা ও ধরলার অববাহিকার ১০৮ স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এসব ভাঙনকবলিত স্থান এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এ দিকে উজানের ঢল ফারাক্কা ব্যারাজ হয়ে পদ্মা নদীতে পড়ায় কুষ্টিয়ার এক হাজার হেক্টর ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। পদ্মার পানিও বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে কুষ্টিয়ার দু’টি ইউনিয়ন পানিবেষ্টিত হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই পদ্মা হু হু করে ফুলে উঠছে। উজানের ঢল এভাবে ধেয়ে আসতে থাকলে উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রংপুর অফিস জানায়, ভারতের গাজলডোবা গেটের সব ক’টি গেট খুলে দেয়ায় এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উজানের পানি আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশের তিস্তার ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডালিয়া ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। গতকাল বুধবার বেলা ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ ছাড়াও আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী ও অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রেরও একই অবস্থা। এরই মধ্যে তিস্তা অববাহিকার ১৫২ কিলোমিটার এবং ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র এলাকার ৩৬০ কিলোমিটার এলাকার চরাঞ্চল ছাড়াও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ এখন পানিবন্দী। হাজার হাজার হেক্টর জমির বাদাম, পাট ও সদ্য রোপিত আমন ধান বানের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। শতশত পুকুর তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। সাথে সমানতালে চলছে ভাঙন। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়বে এই অববাহিকা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।বাংলাদেশের পোশাক
বণিক বার্তা
দৈনিক বণিক বার্তার ‘মেট্রোর নির্মাণ ব্যয় নিয়ে জাইকার সঙ্গে দর কষাকষিতে সরকার’। খবরে বলা হয়, ঢাকায় বর্তমানে আরো দুটি মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্প চলমান। এগুলোর জন্য সরকার ব্যয় প্রাক্কলন করেছে ৯৩ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা। এখন চলছে দরপত্র যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়নের কাজ। তবে ঋণদাতা জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) বেঁধে দেয়া শর্তের কারণে কেবল জাপানি প্রতিষ্ঠান কিংবা জয়েন্ট ভেঞ্চারই দরপত্রে অংশ নিতে পেরেছে। শুধু তাই নয়, দর প্রস্তাব বেশি হলে তা কমানোর জন্য দ্বিতীয়বার দরপত্র আহ্বানেরও সুযোগ রাখা হয়নি।
এ সুযোগে জাপানের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো যে দর প্রস্তাব করেছে, তা বিশ্লেষণ করে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কর্মকর্তারা বলছেন, মেট্রোরেল দুটি নির্মাণে ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা, যা সরকারের প্রাক্কলনের প্রায় দ্বিগুণ।
এদিকে ব্যয় কমিয়ে আনতে এবং দরপত্র প্রক্রিয়া প্রতিযোগিতামূলক করতে জাইকার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে সরকার। প্রয়োজনে তাদের বিকল্প হিসেবে মেট্রো প্রকল্পের জন্য বিশ্বব্যাংক কিংবা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছ থেকে ঋণ নেয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
ঢাকার নতুন দুই মেট্রোরেল লাইনের একটি এমআরটি লাইন-১। বিমানবন্দর-কমলাপুর ও নতুন বাজার-পূর্বাচলের মধ্যে চলমান এ প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। আরেকটি মেট্রোরেল লাইন হচ্ছে হেমায়েতপুর-ভাটারার (এমআরটি লাইন-৫, নর্দান রুট) মধ্যে, যার নির্মাণ ব্যয় ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। দুটি প্রকল্পেই শুরু হয়েছে ডিপো তৈরির কাজ। মাঠপর্যায়ে কাজ শুরুর জন্য চলছে দরপত্র প্রক্রিয়া।
আজকের পত্রিকা
‘ভোটের হাওয়ায় জোটের অঙ্ক’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের শুরুতে ভোটের তফসিল দেওয়ার কথা বলেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী হাওয়া জোরেশোরে বইতে শুরু করায় দলগুলো এখন সম্ভাব্য জোটের জন্য আসন ভাগাভাগির আলোচনায় গুরুত্ব দিচ্ছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের দলের একজন নেতা ‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না’ এমন আওয়াজ তুললেও সরকারের দুজন প্রভাবশালী উপদেষ্টা ভোট না হওয়ার বিষয়টি জোরের সঙ্গে নাকচ করে দিয়েছেন।
সংস্কার, জুলাই সনদ তৈরি, বাস্তবায়নসহ নানা বিষয়ে দফায় দফায় আলোচনার পাশাপাশি প্রায় সব রাজনৈতিক দল নেপথ্যে ভোটের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। ভোটের সময় ক্রমেই এগিয়ে আসায় তারা নিজ নিজ কৌশল নির্ধারণে সক্রিয়। পাশাপাশি নেতারা ব্যস্ত নিজ নিজ মনোনয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টায়। এবার জাতীয় সংসদে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ নামে দুটি আলাদা কক্ষ প্রবর্তনের সম্ভাবনা জোরালো। অন্তত উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতিতে ভোট হওয়ার ব্যাপারে ব্যাপক মতৈক্য হয়েছে। এমন নতুন রাজনৈতিক আবহে দলগুলোকে এবারকার নির্বাচনী কৌশলও একটু রয়েসয়ে ঠিক করতে হচ্ছে।
ভেতরকার তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ দল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই জোট ভিত্তিতে ভোটে যাওয়ার লক্ষ্যে আসন ভাগাভাগির আলোচনায় গুরুত্ব দিচ্ছে। মাঠে সক্রিয় দলগুলোর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী তৎপরতার ওপরই নজর সবার।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘শঙ্কা কাটেনি ঘোষণাতেও’। খবরে বলা হয়, শুধু তারিখ ঘোষণাটাই বাকি। তারপরও নির্বাচন নিয়ে সংশয় দূর হচ্ছে না। সরকারপ্রধানের পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের ঘোষণা, আরপিও সংশোধনের উদ্যোগ কোনো কিছুতেই নির্বাচনী কার্যক্রম দানা বাঁধছে না। পেশাজীবীদের মতো সাধারণ মানুষেরও প্রশ্ন ফেব্রুয়ারিতে ভোট হবে তো?
ঘোষণার পরও ভোট নিয়ে শঙ্কার আলোচনা চাঙা হয়ে উঠছে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যের কারণে। দলগুলোর শর্তের জালে নির্বাচন আটকে যাওয়ার ভয় রয়েছে। পিআর পদ্ধতি নিয়ে এখনো কঠোর মনোভাব দেখাচ্ছে ইসলামী দলগুলো। জুলাই সনদ নিয়ে অনড় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আইনশৃঙ্খলার অবনতি তো প্রতিদিনই দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। সরকারের দায়িত্বশীলরা যথাসময়ে নির্বাচনের কথা বললেও ভোটের হাওয়া বইছে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ নুরুল আমিন ব্যাপারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জুলাই সনদের যা চেয়েছে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি নিয়ে যে অবস্থান নিয়েছে, তা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে ঐকমত্যে আসতে না পারলে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা থেকে যাবে। এজন্য তাদের নিজেদের বসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। এর জন্য বাইরের ভূমিকা লাগবে।’বাংলাদেশের পোশাক
‘নির্বাচনে চোখ বিদেশিদের’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনি প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে নির্বাচন কমিশনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। জনগণের কাছে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পৌঁছে দিতে ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলো।
সরকার ও রাজনৈতিক দল ছাড়াও নির্বাচন ঘিরে তৎপরতা বাড়িয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি মিশন ও পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো। নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন তাঁরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করতে তীক্ষè নজর রাখবে বিদেশি মিশনগুলো।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রথমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে বৈঠক করেন ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে তাঁদের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নির্বাচনি রূপরেখা ও সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় বিএনপির ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। এরপর বাংলাদেশে ফিরে ২২ জুলাই মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ বৈঠকে চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।
কমেন্ট বক্স