আফগানিস্তান আর পাকিস্তানের মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে দুই দেশের কেউই লাভবান হবে না। বরং বেশ কিছু ক্ষতি হবে। লাভবান হবে অন্যরা।
সামরিক দিক দিয়ে আফগানিস্তান পাকিস্তানের ধারেকাছেও নেই। সর্বাত্মক যুদ্ধ হলে তালেবানরা হয়তো প্রাসাদ ছেড়ে গোহায়, পাহাড়ে চলে যেতে পারে। তখন পাকিস্তান বিভিন্ন স্থাপনায় বোম ফেলে সেগুলো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেবে।
কিন্তু সম্মুখযুদ্ধ হলে পাকিস্তান জীবনেও তালেবানের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারবে না। রাশিয়া যেভাবে ট্রাক ট্রাক লাশ নিয়েছিল, ঠিক সেভাবে পাকিস্তানও ট্রাক দিয়ে লাশ নেবে।
অনেকে বলছেন, আফগানিস্তানের রেজিম মানে সরকার পরিবর্তন করতে হবে বা পাকিস্তান করে ফেলতে পারবে। আমার মনে হয় না এটা সম্ভব। আমেরিকার নেতৃত্বে পুরো বিশ্ব টানা ২০ বছর তালেবানকে মেরেছে, পুড়ামাটি নীতি অনুসরণ করেছে; কিন্তু বাস্তবে রাজধানী কাবুলসহ দুয়েক জায়গা বাদে পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ ছিল তালেবানের হাতে।
সর্বাত্মক যুদ্ধ হলে আফগান সীমান্তবর্তী পুরো এলাকা অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠবে। এমনকি এসব এলাকা পাকিস্তানের হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। তারা স্বাধীনতা ঘোষণা করে বসবে। সবাই অস্ত্র হাতে নেবে। তখন দেখা যাবে পাকিস্তান বিমান হামলা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছে না। আর ব্যাকাপে থাকবে আফগানিস্তান। জেনে রাখা দরকার, এই এলাকার প্রায় সব মানুষ পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীর বিরোধী।
বেলুচিস্তানও স্বাধীন হয়ে যেতে পারে। কারণ, এদের পেছনে আছে ভারত। ভারত নানাভাবে এদেরকে সহযোগিতা করে বলে পাকিস্তান অভিযোগ করে। আবার অন্যদিকে ভারত আজাদ কাশমিরে হামলা চালিয়ে বসতে পারে। এমনটা হলে পাকিস্তানের অবস্থা হবে লেজেগোবরে।
পাকিস্তানে আরেকটা ভয়াবহ ঘটনা ঘটবে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে। আর সেটা হলো আত্মঘাতি বা নানা জায়গায় বোমা হামলা। এমনিতেই পাকিস্তানের অবস্থা নাজেহাল। এর মধ্যে দেখা যাবে জায়গায় জায়গায় বোমা হামলা হচ্ছে। পরিস্থিতি চলে যাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আবার সেনাবাহিনীর একটা অংশও ইসলামপন্থি। তারাও একেবারে নীরবে বসে থাকবে না।
পাকিস্তানের মাদরাসার ছাত্র, শিক্ষক ও ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন। এমনকি প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেও বসতে পারেন। এমনটা হলে পাকিস্তান কিছুই সামাল দিতে পারবে না। দেখা যাবে রাত-দিন একাকার করে জনগণ রাজপথ দখল করে বসে আছে।
অদূর ভবিষ্যতে ভারতের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানকে সহযোগিতা করার সম্ভাবনা নেই মনে করি। তবে তালেবানরা যদি বিপদে পড়ে যায়, সে ক্ষেত্রে সহযোগিতা গ্রহণ করেও ফেলতে পারে। আর ভারত তো সেটাই চাচ্ছে।
আমেরিকা সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাবে পাকিস্তানকে। তারা আবার চাইবে সরকার পরিবর্তন করে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দখল নিতে। বিশেষ কর বাগরাম বিমানঘাঁটি।
ইসরাইলও পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াতে পারে। ইতিমধ্যে পাকিস্তানে কিছু আলামত প্রকাশ শুরু হয়েছে। আজীবনের প্রথা ভেঙে পাকিস্তানের টেলিভিশনে ইসরাইলের পার্লামেন্টের অধিবেশন দেখানো হয়েছে।
চীন তলে তলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান দুই দেশকেই সহযোগিতা দিতে পারে। তবে আফগানিস্তানকে সহযোগিতা দেওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে রাশিয়া আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে যেতে পারে। আর ভারত রাশিয়ার মাধ্যমেই আফগানিস্তানকে সহযোগিতা করবে।
শেষ কথা। এই যুদ্ধ কোনোভাবেই কাম্য নয়। যুদ্ধে দুই দেশের লাখ লাখ সাধারণ মুসলিম মারা যাওয়ার আশঙ্কা আছে। কোটি কোটি মুসলিম ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কা আছে।
শেষপর্যন্ত লাভবান হবে ভারত আর আমেরিকা। এমনকি ইসরাইলও। ক্ষতিগ্রস্থ হবে সদ্য স্বাধীন উদীয়মান শক্তির একটি মুসলিম দেশ আফগানিস্তান ও তার জনগণ। ক্ষতিগ্রস্থ হবে বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী মুসলিম দেশ পাকিস্তান ও তার জনগণ।