২০ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

বিদেশ থেকে ফিরছে না ২০ হাজার কোটি টাকা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ১৪-১০-২০২৫ ১১:১২:৫৪ পূর্বাহ্ন
বিদেশ থেকে ফিরছে না ২০ হাজার কোটি টাকা

দেশের তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) খাতে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। রপ্তানি করা পণ্যের বিপরীতে অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা বিদেশ থেকে দেশে ফেরত আসছে না। সংঘবদ্ধ চক্র, বিদেশি বায়ার এবং বায়িং হাউসগুলোর নানা ধরনের জালিয়াতির কারণে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে আছে। পণ্য রপ্তানি করেও টাকা না পেয়ে অনেক গার্মেন্টস মালিক এখন দিশাহারা; অনেকে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসা বন্ধ করে দিতে।

 
এমন পরিস্থিতিতে সংকট নিরসনে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সাক্ষাৎ   চেয়ে চিঠি দিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

 

বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টস কারখানার প্রতারণার শিকার হওয়ার ঘটনাটি এই আলোচনাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। চট্টগ্রাম নগরীর সিরাজউদ্দৌলা রোডের ‘কে গার্মেন্টস’ কারখানা প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের দুই কনটেইনার তৈরি পোশাক আলজেরিয়ার একটি বায়িং হাউসের মাধ্যমে রপ্তানি করে। আলজেরিয়ার ওরান বন্দরে পণ্য পৌঁছানোর পরও বায়িং হাউসের প্রতারণার কারণে রপ্তানিকারক ‘কে গার্মেন্টস’-এর মালিক এক টাকাও পাননি।

 

 

ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান ‘কে গার্মেন্টস লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বিজয় শেখর দাশ বিজিএমইএকে লেখা এক চিঠিতে উল্লেখ করেন, আলজেরিয়ার মাজারিন গ্রুপ নামের ওই বায়িং হাউস নকল পেমেন্ট কাগজপত্র দেখিয়ে বন্দরে থাকা পণ্য ছাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং দুবাইভিত্তিক ক্রেতার কাছ থেকে পণ্যের পূর্ণ মূল্য এরই মধ্যে গ্রহণ করেও কে গার্মেন্টসকে এক টাকাও পরিশোধ করেনি। তিনি জানান, রপ্তানির পেমেন্টের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় ব্যাংক তাঁর প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের আমদানি কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এর ফলে তিনি নতুন করে কোনো ব্যাক টু ব্যাক এলসি খুলতে পারছেন না। বিজয় শেখর দাশের আশঙ্কা, বিদ্যমান পরিস্থিতি না বদলালে আগামী মাস থেকে কারখানা চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা কয়েক হাজার শ্রমিকের জীবনে অনিশ্চয়তা নিয়ে আসবে।

 

 

গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে টাকা ফেরত না আসার পেছনে সুনির্দিষ্ট ছয়টি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে চট্টগ্রামের ‘মেলো ফ্যাশন’ নামে অপর একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ কোটি টাকার পণ্য একই কায়দায় ব্যাংক ডকুমেন্ট ছাড়া খালাস করে নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহসভাপতি এবং গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এ এম মাহবুব চৌধুরী নিজেও ২০০২ সালে চার লাখ ডলারের পণ্যে প্রতারিত হয়েছিলেন। তিনি জানান, ১৯৭৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩০ হাজার রপ্তানি চালানের বিপরীতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা দেশে আসেনি। গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এই টাকা ফেরত আনতে সরাসরি ভূমিকা রাখলে এবং বিদেশে দূতাবাসকে ব্যবহার করে অসাধু বায়ারদের বিরুদ্ধে মামলা করলে প্রতারকরা নিরুৎসাহ হবে।

 
ব্যবসায়ীদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৮(এ) ধারা রহস্যজনকভাবে বিলুপ্ত করে দেওয়ায় বিদেশিরা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে গেছে।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ