মায়ানমার সীমান্তে আবারও গোলাগুলি, উখিয়ায় রোহিঙ্গা গুলিবিদ্ধ
বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের কক্সবাজারের উখিয়া এলাকায় ফের তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত মায়ানমার সীমান্তের ভেতর থেকে গুলির প্রচণ্ড শব্দ শোনা যায়।
স্থানীয়দের দাবি, অনেক গুলি বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরেও এসে পড়েছে। এই ঘটনায় উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইনখালী এলাকার ১২ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রিত এক রোহিঙ্গা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
নতুন করে গোলাগুলির ঘটনায় সীমান্ত এলাকার মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
আরো পড়ুন
সওজের খানাখন্দে ভরা সড়কে মাছ ছেড়ে হাসনাতের প্রতিবাদ
সওজের খানাখন্দে ভরা সড়কে মাছ ছেড়ে হাসনাতের প্রতিবাদ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মায়ানমারের সরকারি বাহিনীকে হটানোর পর রাখাইন রাজ্যের সীমান্ত এলাকার নিয়ন্ত্রণ এখন বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে। সম্প্রতি সেই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘর্ষ তীব্র আকার নিয়েছে। রোহিঙ্গা সংগঠনগুলোর মধ্যে আরসা, আরএসওসহ কয়েকটি দল সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।
রোহিঙ্গা সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘাতে রোহিঙ্গারা এখন তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ মায়ানমার সেনাবাহিনীর সহযোগিতা পাচ্ছে। এতে সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে।
উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাত ১১টার পর থেকে রহমতরবিল, ধামনখালী এবং নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় তীব্র গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।’
তিনি বলেন, ‘মায়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে সংঘটিত গুলিতে আমার ইউনিয়নের থাইনখালী ক্যাম্পে এক রোহিঙ্গা গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
আমি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এর আগেও ঘুমধুম-তুম্বুরু সীমান্তে ওপারের সংঘর্ষে কয়েকজন বাংলাদেশি হতাহত হয়েছিলেন। এখন আবার এমন ঘটনা ঘটায় স্থানীয়রা আতঙ্কে রয়েছে।’
রহমতরবিল গ্রামের বাসিন্দা ফজলুল হক বলেন, ‘সারারাত ধরে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। এমনকি এপারে কম্পনও অনুভূত হয়েছে।
ভয় আর আতঙ্কে আমরা রাতভর ঘুমাতে পারিনি। কেউ কেউ নিরাপত্তার জন্য ঘরে অবস্থান নিয়েছেন, আবার অনেকে উদ্বেগে সারারাত জেগে কাটিয়েছেন।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিজিবির উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন বলেন, ‘মধ্যরাতে গোলাগুলির শব্দ শোনার পর সীমান্ত পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।’
এর আগে গত ৪ অক্টোবর রাতেও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুমের চাকমাপাড়া সীমান্তের ওপারে মায়ানমার অভ্যন্তরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল।
কমেন্ট বক্স