২২ অক্টোবর ২০২৬ , ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণার পর ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের উল্লাস

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ০৯-১০-২০২৫ ০৫:০১:১৭ অপরাহ্ন
গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণার পর ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের উল্লাস

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে হামাস ও ইসরায়েল। এই ঐতিহাসিক চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়তেই খান ইউনিসের রাস্তায় নেমে আসে আনন্দমুখর জনতা। গানে, নাচে, উল্লাসে ভরে ওঠে পুরো এলাকা।রয়টার্সের হাতে পাওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন মানুষ ছোট দলে জড়ো হয়ে নাচছেন, গান গাইছেন ও উল্লাস করছেন।

 
শিশুদেরও হাততালি দিতে দেখা গেছে। এক পর্যায়ে তারা একটি স্পিকারে জোরে গান বাজিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন।

 

যদিও তখনও গাজায় গভীর রাত, আর অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় ইন্টারনেট সংযোগ অত্যন্ত দুর্বল। ফলে অনেক বাসিন্দাই হয়তো এখনো হামাস ও ইসরায়েলের এই চুক্তির খবর জানতে পারেননি বলে  সিএনএনকে জানিয়েছেন গাজার সাংবাদিকরা।

 
তারা আরো জানান, গাজা সিটিতে এখনো ইসরায়েলি বিমান হামলা চলছে। বিশেষ করে সেই এলাকাগুলোতে, যেখানে গত মাসে ইসরায়েল স্থল অভিযান চালিয়েছিল। এ কারণেই বেশিরভাগ মানুষ এখনো বাড়ির ভেতরেই অবস্থান করছেন।

 

গাজা সিটির বাসিন্দা মোহাম্মদ আল-জারু সিএনএনকে বলেন, বুধবার তিনি আকাশে বেশ নিচু দিয়ে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছেন এবং মঙ্গলবার সারাদিন ও রাতজুড়ে গাজায় বিমান হামলা আর বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।

 
তবুও গাজার মানুষ যুদ্ধবিরতির খবরকে আশার প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তারা উদযাপন করছেন, তবে সতর্ক রয়েছেন এই আশায় যে, চুক্তিটি অবশেষে ইসরায়েলের বর্বর হামলার অবসান ঘটাবে।

 

খান ইউনিসের বাসিন্দা খালেদ শাআত রয়টার্সকে বলেন, ‘এটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দুই বছরের হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসযজ্ঞের পর ফিলিস্তিনিদের জন্য এই মুহূর্ত ছিল দীর্ঘ প্রতীক্ষিত।’ আরেক বাসিন্দা ওয়েল রাদওয়ান এই চুক্তির কৃতিত্ব দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।

 
তিনি বলেন, ‘যারা যুদ্ধ থামাতে ও রক্তপাত বন্ধ করতে ভূমিকা রেখেছেন। যদি তা কেবল কথার মাধ্যমেই হয়—তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা।’

 

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মাজিদ আবদ রাব্বো বলেন, ‘পুরো গাজা উপত্যকাই এই ঘোষণায় উল্লসিত।’ রয়টার্সকে তিনি আরো বলেন, ‘সমস্ত আরব জনগণ, এমনকি পুরো বিশ্বই এই যুদ্ধবিরতি এবং রক্তপাতের অবসানকে স্বাগত জানাচ্ছে।’ খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের কাছেও ভোররাতের অন্ধকারে মানুষ জড়ো হয়ে হাততালি ও উল্লাসধ্বনিতে উদযাপন করেন এই শান্তির ঘোষণা।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ৬৭ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরো ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৪১ জন আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ এবং মানবিক সংস্থাগুলোর মতে, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। কারণ, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু হাজার মানুষ চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের এক স্বাধীন তদন্তে প্রথমবারের মতো বলা হয়েছিল, গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই প্রতিবেদনটি অন্যান্য গণহত্যা বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংস্থার পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মিলে যায়। তবে ইসরায়েল সরকার এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর গাজায় আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের পরিবারগুলো তেল আবিবের বিখ্যাত ‘হোস্টেজেস স্কয়ারে’ জড়ো হয়েছিলেন, যা এখন তাদের প্রতিবাদ ও আশার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
এক জিম্মির পরিবার বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আমরা তাকে কৃতজ্ঞতা জানাই, কারণ তার প্রচেষ্টা ছাড়া আমাদের সন্তানরা হয়তো আর কখনো বাড়ি ফিরত না।’

হামাসের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলি সরকার চুক্তিটি অনুমোদনের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জীবিত জিম্মিদের হস্তান্তর করা হবে। তবে হামাস কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে নিহত জিম্মিদের মৃতদেহ উদ্ধারে আরো সময় লাগবে। তাদের ধারণা অনুযায়ী, নিহত জিম্মিদের সংখ্যা প্রায় ২৮ জন। বুধবার ফক্স নিউজের হ্যানিটি অনুষ্ঠানে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘জিম্মিদের সম্ভবত সোমবার মুক্তি দেওয়া হবে।’

এদিকে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প ফোনে কথা বলেছেন এবং একে অপরকে ‘ঐতিহাসিক সাফল্যের’ জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইসরায়েলি সংসদ কনেসেটে একটি ভাষণ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণও জানিয়েছেন।

এর আগে বুধবার হামাস জানিয়েছে, তারা তাদের হাতে আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের তালিকা এবং ইসরায়েলের কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদের তালিকা হস্তান্তর করেছে, যাদের বিনিময় তারা চান। তবে হামাস এখন পর্যন্ত অস্ত্র সমর্পণের বিষয়ে কোনো আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো বলেছে, ইসরায়েলি সেনারা যতদিন ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করে রাখবে, ততদিন হামাস অস্ত্র ত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না।

সূত্র : সিএনএন

 
 
 


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ