২১ অক্টোবর ২০২৬ , ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

ময়মনসিংহে প্রাথমিকের বই কেজি দরে বিক্রি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ০৬-১০-২০২৫ ০৮:১৬:০৬ অপরাহ্ন
ময়মনসিংহে প্রাথমিকের বই কেজি দরে বিক্রি

প্রাথমিকের উদ্বৃত্ত বইগুলো বিক্রির জন্য এক নির্দেশনা জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ। ১৫টাকা কেজি দরে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহের নান্দাইলে এই উদ্বৃত্ত বইগুলো বিক্রির দৃশ্য দেখা যায়। সকাল থেকেই বড় একটি কাভার্ড ভ্যানে প্রবেশ করানো হচ্ছে প্যাকেটজাত করা পাঠ্যবইগুলি, যার পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কেজি।

 

 

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের একটি গুদামে রাখা বইগুলি চকচকে অবস্থায় রয়েছে। বিশাল আয়তনের গুদামে স্তূপে স্তূপে রাখা হয়েছে বই আর বই। ভেতরে দেখা যায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছাড়াও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এবং অফিসের কয়েকজন কর্মচারী। সেই সাথে রয়েছেন অনেক শ্রমিক ছাড়াও কয়েকজন লোক।

 
 

 

জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, সরকারি নির্দেশনায় এই বইগুলির টেন্ডার পেয়েছেন কর্ণফুলী পেপার মিলের পক্ষের একজন ঠিকাদার। তার নাম মো. সেলিম শেখ। তিনি ময়মনসিংহ বিভাগের সকল উপজেলা থেকে উদ্বৃত্ত বই কেজির দরে কিনে নিচ্ছেন। 

ওই ঠিকাদারের পক্ষে এসেছেন মো. ফজলুল রহমান নামে একজন।

 
তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে কার্যাদেশ পেয়ে তিনি ১৪জন শ্রমিকসহ একটি কাভার্ড ভ্যান নিয়ে ঢাকা থেকে এসেছেন। এ সময় একটি চার পাতার নির্দেশনাও দেখান তিনি। নির্দেশনায় কর্ণফুলী পেপার মিলস লিমিটেডকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের ব্যবহার অযোগ্য পুরাতন পাঠ্য বই বিক্রয় ও সরবরাহকরণে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। 

 

নির্দেশনার নিচে গত ৩১ আগস্ট দেওয়া পরিচালক প্রশাসন একে মোহাম্মদ সামছুল আহসানের স্বাক্ষর দেখা যায়। ওই পত্রে ঠিকাদার সেলিম শেখকে ১৫ টাকা কেজির দরে বই দিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা রয়েছে।

 
 

 

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে সেলিম শেখের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের সকল উপজেলার বই কিনব। এ নির্দেশনা অধিদপ্তরের। তিনি বলেন, আমার একজন লোক আছে। তিনি আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। এই বলে ফোন কেটে দেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, প্রাথমিকের প্রতিটি বই ছাপতে খরচ হয় ৫০ টাকা। ৬টি বইয়ের পরিমাণে এক কেজি হয়। সে হিসেবে ৬টি বই ছাপতে সরকারের খরচ পড়ে প্রায় ৩০০ টাকা। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের উদ্বৃত্ত বইগুলো ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রির নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নান্দাইল উপজেলায় চলতি শিক্ষা বছরে মোট ১৭৮ টি বিদ্যালয়ে বইয়ের চাহিদা দেওয়া হয়েছিল ৩ লাখ ৩১ হাজার ৫০। এই হিসাবে (৬টায় এক কেজি ধরে) কমপক্ষে ৬০ হাজার বই উদ্বৃত্ত ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফজিলাতুন্নেছা বলেন, অধিদপ্তরের নির্দেশনা পেয়ে ঠিকাদারের লোকজনকে উদ্বৃত্ত বই তুলে দিয়েছি। এখানে অনিয়মের কোনো আশ্রয় নেওয়া হয়নি। বিক্রিত টাকা সরকারের কোষাগারে জমা হবে। 

এতো বই উদ্বৃত্ত রইলো কিভাবে এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, বই বিতরণের সময় বিদ্যালয়ে ওই পরিমাণ শিক্ষার্থী তখন পাওয়া যায় না। অনেকেই ঝড়ে পড়ে বা মাদরাসায় চলে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. উবায়দুল্লাহ বলেন, বই বিক্রির বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি। তবে জেলার একজন প্রতিনিধি ওইখানে থাকার প্রয়োজন ছিল। 

বিপুল পরিমাণ বই উদ্বৃত্ত থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, কারিকুলাম পরিবর্তন হওয়ায় এতো বই রয়ে গেছে।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ