২৯ অক্টোবর ২০২৬ , ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

তিস্তায় তীব্র ভাঙন, ঝুঁকিতে দুই শতাধিক বসতবাড়ি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ০৬-১০-২০২৫ ০৭:৩৪:০৮ অপরাহ্ন
তিস্তায় তীব্র ভাঙন, ঝুঁকিতে দুই শতাধিক বসতবাড়ি

হঠাৎ টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে পানি বেড়ে যাওয়ায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে  তিস্তা নদীতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেইসঙ্গে চরাঞ্চল ও নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। তীব্র ভাঙনে উঠতি আমন ক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসলি জমি ও বহু বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের উত্তর লালচামার গ্রামে ২০টি বসতবাড়ি তিস্তায় হারিয়ে গেছে।

 
আতঙ্কিত এলাকাবাসী  ৫০টি বসতবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া অন্তত দুই শতাধিক বসতবাড়ি ভাঙনের মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, পানি বাড়তে থাকায় নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মূল ভুখণ্ডের সঙ্গে চরের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে।
 
নৌকা ছাড়া এক চর থেকে অন্য চরে যাওয়া-আসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চণ্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীতে প্রতিবছর পানি বাড়লে বা কমলে এমনকি বন্যা দেখা দিলে শুরু হয় নদীভাঙন, যা চলতে থাকে মাসের পর মাস। তারা বলেন, সরকার স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ, ড্রেজিং, নদী খনন, ও সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতিবছর পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি, হাজার একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হঠাৎ করে গত রবিবার থেকে তিস্তায় পানি বাড়তে থাকে।

 
ফলে লালচামার, উত্তর লালচামার, ভোরের পাখি, ভাটী কাপাসিয়া চর গ্রামে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে লালচামার গ্রামের মমিনুল, কছিম উদ্দিন, আবুল মিয়া, জহুরুল ইসলাম, আমিনুল ইসলামসহ ২০ জনের বসতবাড়ি, শতাধিক বিঘা জমির আমন ক্ষেতসহ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বসতবাড়ি সরিয়ে নিয়ে গেছে অন্তত ৫০টি পরিবার। ভাঙনের মুখে পড়েছে শতাধিক বিঘা ফসলি জমিসহ ২০০টি বসতবাড়ি। চরের মানুষ এখন ত্রাণ চায় না, তারা স্থায়ী নদীভাঙন রোধ চায়।
 
’

 

লালচামার গ্রামের কছিম উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিবছর নদীর ভাঙনে বসতবাড়ি, ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে নদীগর্ভে। একজন চরবাসীকে এক মৌসুমে অন্তত  তিনবার ঘরবাড়ি সরাতে হয়। চরাঞ্চলের মানুষের জন্য কর্তৃপক্ষের কোনো  সহানুভূতি নেই।’

কাপাসিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মনজু মিয়া বলেন, ‘গত রবিবার থেকে তিস্তার পানি বাড়তে থাকায় কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভাঙন রোধে প্রাথমিকভাবে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হচ্ছে। স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকানো না হলে চরবাসীর দুঃখ দূর হবে না। অথচ চরগুলো এখন সারাবছর নানা ফসলে ভরপুর থাকে। ভাঙনের মতো দুর্যোগে চলতি মৌসুমে মাঠের ফসল নিয়ে শঙ্কিত চাষিরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাশিদুল কবির বলেন, কাপাসিয়া শ্রীপুর, চণ্ডিপুর ও হরিপুর ইউনিয়নের কয়েকটি চরে তিস্তার ভাঙনে আমনক্ষেতসহ ফসলি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে । এতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ওয়ালিফ মণ্ডল বলেন, কাপাসিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি চরে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। চেয়ারম্যানকে ভাঙনকবলিত পরিবারের তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় এই মুহূর্তে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা হাতে নেই। স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ