ভারতের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালানো হলে তা আরও কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে সতর্ক করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ। এসময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আবার সংঘাতে জড়ালে ভারতের কবর তাদের যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষের নিচেই হবে।
আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, গত মে মাসে তীব্র সংঘাতের পর নিজেদের হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব এখন ‘আত্মসম্মান রক্ষার প্রচেষ্টা’ চালাচ্ছে।
আসিফের এমন মন্তব্য আসল ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর বক্তব্যের পর।
ভারতের সেনাবাহিনীর ভাষ্যমতে, মে ২০২৫-এর সংঘাতে পাকিস্তানের ভেতরে নয়টি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল, যাতে শতাধিক পাকিস্তানি সেনা ও জঙ্গি নিহত হয়।
মে মাসের ওই সংঘাত ছিল সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সংঘর্ষ।
এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে খাজা আসিফ বলেন, ‘ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য তাদের ব্যর্থতার প্রমাণ। ০–৬ ব্যবধানে এমন পরাজয়ের পর যদি তারা আবার চেষ্টা করে, আল্লাহ চাহে তো এবার ফল আরও ভয়াবহ হবে।
পাকিস্তান দাবি করেছে, মে মাসের যুদ্ধে তারা ভারতের ছয়টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে ফ্রান্সের তৈরি রাফালও রয়েছে। তবে ভারত এই দাবি অস্বীকার করেছে। ভারতের বিমানবাহিনীর দাবি, তারাই পাকিস্তানের এফ–১৬ ও জেএফ–১৭ মডেলের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে।
কাশ্মীর ইস্যু ঘিরে দুই দেশের টানাপোড়েন আরো বেড়েছে।
এদিকে, ভারতের সেনাপ্রধানের বক্তব্যের জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীও। এক বিবৃতিতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ‘ভারতের এমন বিভ্রান্তিকর ও যুদ্ধবাজ বক্তব্য কেবল উসকানিমূলক নয়, বিপজ্জনকও। নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তা ভয়াবহ ধ্বংস ডেকে আনবে, এবং পাকিস্তান এবার কোনো সংযম দেখাবে না।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘যারা নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে চায়, তাদের জানা উচিত—পাকিস্তানও নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে, যা হবে দ্রুত এবং ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়া। পাকিস্তানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করলে সেই পরিণতি হবে পারস্পরিক।’