২১ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ


পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

বনদস্যুদের মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছেন ৩ জেলে, এখনো জিম্মি ২

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | ন্যশনাল টাইমস টোয়েন্টিফোর.কম
আপলোড সময় : ০৪-১০-২০২৫ ০৭:৫২:৩৬ অপরাহ্ন
বনদস্যুদের মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছেন ৩ জেলে, এখনো জিম্মি ২

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের তেঁতুলবাড়িয়া ও হয়লাতলা এলাকা থেকে মাছ ধরতে যাওয়া বাগেরহাটের শরণখোলার পাঁচ জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করেছে বনদস্যু শরীফ বাহিনী। এদের মধ্যে তিন জেলে মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরলেও এখনো দুই জেলে দস্যুদের হাতে জিম্মি রয়েছেন। 

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে বনের তেঁতুলবাড়িয়া ও হয়লাতলা এলাকায় মাছ ধরার সময় এই অপহরণের ঘটনা ঘটে। ওই দিন জেলেরা ৪-৫টি নৌকায় ভাগ হয়ে নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরছিলেন।

 
রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শরীফ বাহিনীর আটজন সদস্য সশস্ত্র অবস্থায় এসে তেঁতুলবাড়িয়া এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে তিন জেলেকে জিম্মি করে একটি ইঞ্জিনবিহীন নৌকায় তুলে নিয়ে যায়। এ সময় তারা জেলেদের সঙ্গে থাকা মাছ ও মালামাল লুটে নেয়। অপরদিকে একই দিন হয়লাতলা এলাকা থেকেও আরো দুজনকে জিম্মি করে নেয়। পরে যাওয়ার সময় নৌকার অন্য জেলেদের কাছে মুক্তিপণের জন্য যোগাযোগ করতে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে যায়।
 

 

অপহৃত পাঁচ জেলের মধ্যে রফিকুল ইসলাম, ইসমাইল ও বাদল নামের তিনজন মুক্তিপণ দিয়ে গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাতে বাড়ি ফিরেছেন। জানা গেছে, এসব জেলেদের পরিবার ও মহাজনরা কেউ ২০ হাজার, কেউ ৩০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে এনেছেন।

এখনো দস্যুদের হাতে জিম্মি রয়েছেন শরণখোলার সোনাতলা গ্রামের সাদ্দাম হোসেন ও রাকিব। তাদের মুক্তির জন্য দস্যুরা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে।

 
কিন্তু দরিদ্র জেলে পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে তাদের স্বজনরা।

 

সাদ্দামের মা মঞ্জু বেগম জানান, তারা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে চেয়েছেন, কিন্তু তাতেও দস্যুরা রাজি হয়নি। ছেলেকে না পেয়ে দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছে পরিবার।

দীর্ঘদিন শান্ত থাকা সুন্দরবনে সম্প্রতি আবারও দস্যুতা শুরু হওয়ায় চরম আতঙ্কে পড়েছেন মাছ ধরায় নিয়োজিত জেলেরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, সুন্দরবনের বিভিন্ন খাল ও নদীতে এখন জেলেদের পক্ষে নিরাপদে মাছ ধরা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 
প্রতিনিয়ত অপহরণ ও মুক্তিপণের ঘটনায় মহাজনরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

 

এদিকে, মোংলা কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনে সক্রিয় বেশ কয়েকটি দস্যু বাহিনীর বিরুদ্ধে তারা সম্প্রতি অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে কয়েকজন দস্যু সদস্যকে আটক করা হয়েছে এবং কিছু জিম্মি জেলেকেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনে দস্যুতা ও অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 
 
 


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ