রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা ও অবকাঠামোর নাম। দুই-তিন দশকের পুরোনো প্রতিষ্ঠানের নামও হুট করে বদলে দেওয়া হচ্ছে। ক্ষমতাসীনরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম নিজেদের নামে করতে তৎপর হয়ে ওঠে। নামকরণ আর নাম বদলের এই খেলায় একদিকে রাষ্ট্রীয় অর্থের বিপুল অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে নাম নিয়ে বিভ্রান্তি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকেই নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের এই সংস্কৃতি শুরু হয়। রাজনৈতিক নেতাদের নাম, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কিংবা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে বিভিন্ন স্থাপনার নাম বদলানো হয়েছে। ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি-জোট সরকারের আমলে দেশের কিছু স্থাপনা দলীয় নামকরণ পায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নাম পরিবর্তনের সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ হলো ঢাকার বিমানবন্দরটি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্বল্পোন্নত একটি দেশে রাজনৈতিক কারণে জনগণের টাকায় এ ধরনের ব্যয়বহুল নাম পরিবর্তন কেবল রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ই নয়, বরং সামাজিক ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তাও বাড়াচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তারা বলেন, শুধু একটি সড়কের নাম পরিবর্তন করলে ওই এলাকার হাজার হাজার মানুষের নথিপত্রে, ঠিকানায় সমস্যা তৈরি হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট সবকিছুতে সমস্যা হয়। জমির দলিল ও আইনি কাগজে পুরোনো নাম থাকায় আইনি জটিলতা তৈরি হয়। ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। অন্যদিকে পরিবর্তিত নামটি রাষ্ট্রের সব স্তরে নতুন করে সংযোজন করতে, নথিপত্র পরিবর্তন করতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। নামটি পরিচিত করে তুলতেও যুগ পার হয়ে যায়। হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, বিমানবন্দর, স্টেশন ইত্যাদি হঠাৎ নাম বদল হলে সাধারণ মানুষ জায়গা চিনতে অসুবিধায় পড়েন। এতে রাজনৈতিক বিভেদও বাড়ে। তাই রাজনৈতিক নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের সংস্কৃতি থামা উচিত।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম মহিউদ্দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নামকরণ ও নাম পরিবর্তন সংস্কৃতি এই উপমহাদেশে বেশি। ইউরোপ-আমেরিকায়ও ব্যক্তির নামে স্থাপনা বা অবকাঠামোর নামকরণ হয়। তবে ব্যক্তির নামে নামকরণের ক্ষেত্রে তারা ওই ব্যক্তির রাজনৈতিক, বৈজ্ঞানিক বা সামাজিক অবদান বিবেচনা করে। বাংলাদেশে সেটা হয় না। ক্ষমতায় আসলে কোনো অবদান না থাকলেও তার নামে প্রতিষ্ঠান হয়। এই কারণে সরকার বদলালে নাম বদলে যায়। এতে দেশ ও মানুষের ক্ষতি। এই কারণে নামকরণের জন্য জাতীয়ভাবে একটা নীতিমালা থাকা উচিত।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন।