খাগড়াছড়ির ঘটনায় ‘ধর্ষণের আলামত মেলেনি’ : চিকিৎসক
যে ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে তুলকালাম কাণ্ড, হামলা-পাল্টা হামলা, নিহত-আহত, গ্রেপ্তার-রিমান্ড, অবরোধ, ১৪৪ ধারা জারি; এখন চিকিৎসকরা বলছেন, সেই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হননি। তাকে ধর্ষণের কোনো আলামত পায়নি এ ঘটনায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ছাবের আহম্মেদ।
তিনি বলেন, ‘ওই ঘটনায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড সোমবার তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে। এতে ধর্ষণের আলামত পাননি তারা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছি আমরা। তারা এ নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন।
’
এর আগে এ ঘটনায় খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক জয়া চাকমার নেতৃত্বে তিন সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। বোর্ডের অপর দুই সদস্য হলেন একই হাসপাতালের চিকিৎসক মোশাররফ হোসেন ও নাহিদা আক্তার। মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান জানিয়েছেন, ওই ছাত্রীর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। এমনকি সে ধর্ষণের শিকারও হননি; এই মর্মে প্রতিবেদন দিয়েছেন তারা।
এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরেফিন জুয়েল বলেন, ‘সবই তো দেখলেন এবং জানলেন। বিষয়টি একদম পরিষ্কার হয়ে গেল। আসলে ধর্ষণের ঘটনাই ঘটেনি। মিথ্যা একটা অভিযোগ তুলে পুরো পার্বত্য অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছিল একটি গোষ্ঠী।’
এদিকে, ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’-এর ব্যানারে ডাকা সড়ক অবরোধ মঙ্গলবারও অব্যাহত রয়েছে।
জেলার চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি ও ঢাকা-খাগড়াছড়ি সড়কে অবরোধ শিথিল করা হলেও দূরপাল্লার বাস চলাচল শুরু হয়নি। অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতেও অল্পসংখ্যক অটোরিকশা-ইজিবাইক চলাচল করছে। প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারাও বহাল রয়েছে জেলার সদর ও গুইমারা উপজেলায়।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই দিন রাত ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় একটি ক্ষেত থেকে তাকে উদ্ধার করেন স্বজনরা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শয়ন শীল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে ছয় দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
কমেন্ট বক্স